এফবিআইয়ের সতর্কবার্তার পরও মসজিদে হামলা, প্রাণ গেল তিনজনের

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদে হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার কয়েক দিন আগে এক কিশোর সন্দেহভাজনের ডার্ক ওয়েবে স্কুলে গুলিবর্ষণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্যের বিষয়ে তার বাবা-মাকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ওই কিশোরের মায়ের দায়ের করা একটি মামলায় এ তথ্য উঠে এসেছে

এফবিআইয়ের সতর্কবার্তার পরও মসজিদে হামলা, প্রাণ গেল তিনজনের

এফবিআইয়ের সতর্কবার্তার পরও মসজিদে হামলা, প্রাণ গেল তিনজনের


ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদে হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার কয়েক দিন আগে এক কিশোর সন্দেহভাজনের ডার্ক ওয়েবে স্কুলে গুলিবর্ষণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্যের বিষয়ে তার বাবা-মাকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ওই কিশোরের মায়ের দায়ের করা একটি মামলায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ১৪ মে ফেডারেল কর্মকর্তারা ক্যালেব ভাসকেজের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে অনলাইনে স্কুলে গুলিবর্ষণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করছিল।

ভাসকেজের মা ওই সতর্কবার্তা তার ছেলের চিকিৎসা নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এফবিআইয়ের এই সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর ভাসকেজ এবং আরেক কিশোর, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক, সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

হামলায় নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন নিহত হন। পরে পুলিশ কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর দুই সন্দেহভাজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তারা নিজেদের গুলিতে মারা গেছে।

সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সান দিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, কর্মকর্তারা চার মিনিটের মধ্যেই মসজিদে পৌঁছে বাইরে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কাছাকাছি এলাকায়ও গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এমনকি ঘটনাস্থলের এক মালীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও তিনি গুলিবিদ্ধ হননি।

হামলার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ইসলামিক সেন্টার ঘিরে ফেলেন। মসজিদ ও পাশের একটি স্কুলে তল্লাশি চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করা হয় এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ভাসকেজের মায়ের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পার্ক মেন্টাল হেলথ ট্রিটমেন্ট অব সান দিয়েগো তার ছেলের আচরণ সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ভাসকেজ বিষণ্নতা ও মানসিক বিকারজনিত পর্বসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিল।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, এর আগেও এক সহপাঠীকে স্কুলে গুলিবর্ষণ করার ইচ্ছার কথা বলার পর ভাসকেজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক বছর আগেও কর্তৃপক্ষ তার আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ‘রেড ফ্ল্যাগ’ আইনের আওতায় তার বাবার মালিকানাধীন ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাসকেজের সঙ্গে ক্লার্কের অনলাইনে পরিচয় হয় এবং পরে তারা অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়। তবে তাদের সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য বা হামলায় কার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভাসকেজের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠান বা এর কোনো কর্মী দায়ী নয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর