আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার চাকরি বেড়েছে, বেকারত্ব ৪.১ শতাংশেই স্থির

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে আগস্টে বড় উন্নতি, নতুন কর্মসংস্থান প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে; তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার চাকরি বেড়েছে, বেকারত্ব ৪.১ শতাংশেই স্থির

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার চাকরি বেড়েছে, বেকারত্ব ৪.১ শতাংশেই স্থির


যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আগস্ট মাসে প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির বেসরকারি ও সরকারি খাতে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি গত পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। অবসর ও আতিথেয়তা খাতে প্রায় ৬২ হাজার এবং স্থানীয় সরকার পরিচালিত শিক্ষা খাতে প্রায় ৪২ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। 

এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শ্রমবাজারে মন্থরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দামের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আগস্টের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, এসব চাপের মধ্যেও নিয়োগ কার্যক্রম পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়েনি।

বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির থাকলেও শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার বেড়েছে। আগস্টে শ্রমশক্তিতে প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ফলে চাকরির বাজারে নতুন করে প্রবেশ করা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে বেকারত্বের হার একই পর্যায়ে রয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির হারও কিছুটা কমেছে। গড়ে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে জুলাইয়ে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। মজুরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসা মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে শ্রমবাজারের কিছু দুর্বল দিকও উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বেড়েছে এবং বেকার থাকা মানুষের চাকরি খুঁজে পাওয়ার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। অর্থাৎ মোট চাকরি বাড়লেও সব শ্রেণির কর্মপ্রার্থী একইভাবে সুবিধা পাচ্ছেন না।

আগস্টের শক্তিশালী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। শক্তিশালী শ্রমবাজার সাধারণত অর্থনীতিতে চাহিদা ধরে রাখে এবং অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে সুদের হার কমানোর বদলে ভবিষ্যতে বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। রয়টার্সের হিসাবে, শক্তিশালী চাকরির প্রতিবেদনের পর বাজারে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। 

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে চাপ দিয়ে আসছেন। ফলে ফেডের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে টানাপোড়েনও সামনে আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের এই বৃদ্ধি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন চাকরির বাজার শক্তিশালী থাকলে নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তুলনামূলকভাবে ভালো থাকতে পারে। তবে অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং কিছু খাতে শ্রমিকের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও শ্রমবাজারে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের জন্য এখন মূল প্রশ্ন হলো—আগস্টের শক্তিশালী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কি একটি সাময়িক পুনরুদ্ধার, নাকি মার্কিন শ্রমবাজার আবার স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে ফিরছে। আগামী কয়েক মাসের চাকরির তথ্য সেই উত্তর আরও পরিষ্কার করবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর