যুদ্ধের মাঝেই মস্কোর পথে ট্রাম্পের দূত, কিয়েভে পৌঁছাবে শান্তির নতুন বার্তা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দুই দূত মস্কো ও কিয়েভে যাচ্ছেন, আলোচনার মধ্যেই আকাশ হামলা অব্যাহত।
যুদ্ধের মাঝেই মস্কোর পথে ট্রাম্পের দূত, কিয়েভে পৌঁছাবে শান্তির নতুন বার্তা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের দীর্ঘ যুদ্ধ বন্ধ করতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি নতুন আলোচনা কাঠামো তৈরি করা। সফরের সময় দুই পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা থামেনি। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন ধরনের দ্রুতগতির ড্রোন ব্যবহারের কারণে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে প্রায় সার্বক্ষণিক বিমান হামলার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ক্লাস কখনো কখনো ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হচ্ছে এবং বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে গণপরিবহনও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কিয়েভের কেন্দ্রীয় এলাকায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরেও রুশ ড্রোন আঘাত করেছে। হামলায় ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনার সময় অন্তত আকাশ হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আলোচনা চলার সময় হামলা অব্যাহত থাকলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দুর্বল হতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইউক্রেন তার ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। রাশিয়া দখল করা অঞ্চল এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুই পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটি যুদ্ধবিরতির কাঠামো তৈরি করা। যুদ্ধবিরতি হলে সেটি কতদিন কার্যকর থাকবে, সীমান্তের প্রশ্ন কীভাবে সমাধান হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।
মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত থাকায় আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপও চলছে।