অভিবাসন অভিযানে গুলির পর বিপাকে কর্মকর্তা, আদালতে ছয় অভিযোগে দাঁড়ালেন তিনি
মিনেসোটায় গুলির ঘটনার বিবরণ নিয়ে তদন্তকারীদের মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিবাসন কর্মকর্তা আদালতে হাজির, দোষ অস্বীকার করেছেন তিনি।
অভিবাসন অভিযানে গুলির পর বিপাকে কর্মকর্তা, আদালতে ছয় অভিযোগে দাঁড়ালেন তিনি
মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ছয়টি অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ২ সেপ্টেম্বর কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ অনুমোদন করে। অভিযোগগুলো হলো তদন্তের সময় এফবিআই কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জেনেশুনে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। কাস্ত্রো তখন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার একজন বহিষ্কার কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার সঙ্গে থাকা আরেক কর্মকর্তা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার সময় ঘটনাটি ঘটে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্ত্রো তদন্তকারীদের বলেছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করার সময় একজন ব্যক্তি ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করেন এবং আরেক ব্যক্তি তুষার সরানোর সরঞ্জাম দিয়ে আঘাত করেন। তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতির মধ্যে তিনি মাটিতে থাকা অবস্থায় গুলি চালিয়েছিলেন।
তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া এই বিবরণই এখন মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগের বিবরণ; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাস্ত্রো নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
শুক্রবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তাকে নির্দিষ্ট শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার ওপর বৈদ্যুতিন নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা, বলপ্রয়োগ এবং অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের অধিকার—এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
এই মামলায় মূল আইনি প্রশ্ন হচ্ছে, কর্মকর্তা সত্যিই তদন্তকারীদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না এবং সেই বক্তব্য ফেডারেল আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয় কি না।
একই সঙ্গে গুলির মূল ঘটনাটি নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত হয়েছে। তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বর্তমানে যে ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে, তা মূলত তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্তে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরীণ পেশাগত দায়িত্বশীলতা বিভাগ, মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং এফবিআই অংশ নিয়েছে।
এখন মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। প্রসিকিউশন ভিডিও, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে তাদের অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করবে। কাস্ত্রোর পক্ষ তার বক্তব্য ও আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।