বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসায় কাজ ও সন্তান জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ
বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসায় চাকরি, নিয়মিত পড়াশোনা কিংবা সন্তান জন্মের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নিয়ে নতুন সতর্কতা, সরকারি নিয়ম জানা জরুরি।
বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসায় কাজ ও সন্তান জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিজিটর ভিসা মূলত সাময়িক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেই সেখানে যেকোনো ধরনের কাজ বা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের অধিকার তৈরি হয় না।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাধারণ চাকরি করা অনুমোদিত নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিজিটর ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি গ্রহণ বা কাজ করতে পারবেন না। তবে বি-১ ভিসার অধীনে কিছু সীমিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম করা যায়। উদাহরণ হিসেবে ব্যবসায়িক বৈঠক, সম্মেলনে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি করার পরিকল্পনা করেন, তাকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপযুক্ত কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা বা বৈধ কর্ম-অনুমতির ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ভিজিটর ভিসা নিয়ে গিয়ে পরে চাকরি শুরু করা বৈধ পদ্ধতি নয়।
পড়াশোনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা রয়েছে। ভিজিটর ভিসা সাধারণত নিয়মিত ডিগ্রি বা পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। কোন ধরনের স্বল্পমেয়াদি কোর্স ভিজিটর ভিসার আওতায় পড়তে পারে, সেটিও নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা এবং নিজ দেশের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা হাতে পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ভিসা একজন বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার সুযোগ দেয়; চূড়ান্তভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা সীমান্ত কর্মকর্তাদের।
তাই বাংলাদেশি ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেদন করার সময় ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে জানানো এবং সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঠিক ভিসার ধরন মিলিয়ে নেওয়া।
কেউ যদি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, পর্যটন করতে অথবা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভিজিটর ভিসার নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে চাকরি, নিয়মিত উচ্চশিক্ষা বা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্য থাকলে ভিন্ন ভিসা শ্রেণির প্রয়োজন হতে পারে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও তাদের ভিসা সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ভিসা শ্রেণি ও নিয়ম অনুসরণ করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিসা-সংক্রান্ত অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা দেখা সবচেয়ে নিরাপদ।