দুর্যোগের নয় দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক

নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোতে বিপর্যয়ের নয় দিন পর শুক্রবার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন

দুর্যোগের নয় দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক

দুর্যোগের নয় দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক


নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোতে বিপর্যয়ের নয় দিন পর শুক্রবার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ২৬ আগস্ট নদীর উজানে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট ভয়াবহ বিপর্যয়ে ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে অন্তত ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে প্রথম জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি। তাঁদের নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একই স্থানে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

নেপালি কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কবির মহার্জনকে মাটির একটি গর্ত দিয়ে ওপরে তুলে আনা হলে উপস্থিত মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। পরে তাঁকে স্ট্রেচারে তোলা হয়। তাঁর সহকর্মী সঞ্জয় সাহকে আরেক শ্রমিকের পিঠে করে বের করে আনা হয়। তাঁর মুখ তখনও কাদায় ঢাকা ছিল। পরে সেনাবাহিনীর চিকিৎসকেরা তাঁকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন।

সঞ্জয় সাহ ছিলেন একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। তিনি জানান, দুর্যোগের খবর শোনার পর সহকর্মীদের দ্রুত পালিয়ে যেতে বললেও অন্যদের বেরিয়ে যেতে সহায়তা করতে তিনি টানেলের একটি কন্ট্রোল রুমে থেকে যান।

সাহ বলেন, “আমি কন্ট্রোল রুমে ছিলাম। তাই সবার জীবন বাঁচানো আমার দায়িত্ব ছিল। এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর আমার পক্ষে সবাইকে ফেলে পালিয়ে যাওয়া ঠিক হতো না।”

আটকা থাকার সময় তিনি মন্ত্র বা প্রার্থনার শ্লোক পাঠ করছিলেন বলেও জানান। সাহ উদ্ধারকারীদের বলেছেন, টানেলের ভেতরে তাঁর সঙ্গে আরও তিন-চারজনের যোগাযোগ ছিল। টানেলের আরও গভীরে অন্য কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলেও তিনি জানান।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লাংটাং জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টানেল থেকেও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, বন্যায় অন্তত ১,২৯৪ জন নিহত হয়েছেন। বন্যার পানিতে সীমান্তবর্তী শহর ও গ্রামের বাড়িঘর, সড়ক ও স্কুল ভেসে গেছে। এখনো ৫,০৫৩ জন নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের অনেকেই পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আরও ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

‘অলৌকিক’ উদ্ধার

উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক বর্তমানে সেনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তাঁদের শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচক স্থিতিশীল রয়েছে।

মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন তাঁর হাত ও পা নড়াতে পারছেন না। তবে সঞ্জয় সাহের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রীর এক সহকারী।

কবিরের ভাই আমির মহার্জন জানান, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইয়ের সন্ধান পাওয়ার খবর পাননি। তবে তাঁকে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সংবাদে শুনেছি আমার ভাইকে পাওয়া গেছে। পুরো পরিবার খুবই আনন্দিত।”

দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি টানেল থেকে একদল মানুষ অন্ধকারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এদিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে থাকা প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা উদ্ধারকারীদের টানেলের ভেতরে অনুসন্ধানে সহায়তা করছেন। হেলিকপ্টার ও ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি এই যোগাযোগব্যবস্থা নিখোঁজদের সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় আরও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন।

সূত্র: রয়টার্স 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর