যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ইরানি পাইলট নিহত, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিন সামরিক পাইলট নিহত, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল অন্তত উনিশজনে বলে দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ইরানি পাইলট নিহত, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় দেশটির তিন সামরিক পাইলট নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহত তিন পাইলটের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে মোজতবা বাঘেরি ও হামেদ ওকাতি ইরানের নৌবাহিনীর পাইলট ছিলেন। অন্যজন হোসেইন মাহদাভিয়ান ইরানের বিমানবাহিনীর পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে তারা কোন ঘাঁটিতে বা ঠিক কোন এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন এবং সে সময় তারা কোনো বিমান পরিচালনা করছিলেন কি না—এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৩ জন ইরানি সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে এই তিন পাইলটও আছেন। এর আগে লাওয়ান দ্বীপে আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর মহাকাশ বাহিনীর চার সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব অভিযানকে নিজেদের বাহিনী ও আঞ্চলিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
হামলার পর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে।
এদিকে দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
তিন পাইলটের মৃত্যুর খবরটি বর্তমানে মূলত ইরানি সূত্রনির্ভর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাসনিমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিষয়টি প্রকাশ করেছে। তাই নিহতদের পরিচয় ও সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত।
নতুন করে সামরিক সংঘাত বাড়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।