ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় তিন সামরিক পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত

মার্কিন হামলায় ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে তেহরান।

ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় তিন সামরিক পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত

ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় তিন সামরিক পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত


ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তিন সামরিক পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে দুজন নৌবাহিনীর এবং একজন বিমানবাহিনীর পাইলট রয়েছেন। একই হামলায় নৌবাহিনীর আরও ছয় সদস্য নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।


ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গল ও বুধবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। হামলায় খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন নিহত হন। পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের চার সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে তিনজন এবং হরমুজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি সূত্র।


হরমুজগানের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় নিহতদের পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ওই হামলার পর আশপাশের ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ তুলেছে।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। কোনো হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।


ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কেরমানশাহ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার ঘটনায় ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।


এই পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নৌ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর