মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধ ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিধিনিষেধ আদালতে চ্যালেঞ্জ, ভোটাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে।
মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধ ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মেইল বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম নিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।ট্রাম্প প্রশাসন ডাকযোগে ভোটের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
কিন্তু এই পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীরা বলছেন, ফেডারেল সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যগুলোর নির্বাচনী নিয়ম পরিবর্তন করার ক্ষমতা সীমিত। ওয়াশিংটন পোস্টের ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের কাছে মেইল ব্যালট সম্পর্কিত বিধিনিষেধ কার্যকর করার অনুমতি চেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনেকটাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব নির্বাচনী আইন রয়েছে। ভোটের সময়সূচি, ব্যালট গ্রহণ, নিবন্ধন এবং ভোট গণনার বিভিন্ন নিয়ম রাজ্যভেদে আলাদা।
এই কাঠামোর কারণে ফেডারেল সরকার কোনো নতুন জাতীয় নিয়ম চাপিয়ে দিতে চাইলে তার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।মেইল ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বহু আমেরিকান ভোটার নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে আগেই ব্যালট পাঠান। সামরিক সদস্য, বয়স্ক মানুষ, প্রতিবন্ধী ভোটার, দূরে থাকা ব্যক্তি কিংবা কাজের কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারা মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
সমর্থকেরা বলেন, ডাকযোগে ভোট ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ায়। বিরোধীরা বলেন, ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থায় পরিচয় যাচাই ও সময়সীমা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের ফলে রাজ্যগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ফেডারেল সরকারের প্রভাব বাড়তে পারে।বিষয়টি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এই নির্বাচন বড় ভূমিকা রাখবে।
আইনি লড়াই দ্রুত এগোলে রাজ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হতে পারে। কারণ ব্যালট ছাপানো, ভোটারদের নির্দেশনা এবং নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য আগেই প্রস্তুতি নিতে হয়।
যদি শেষ মুহূর্তে আদালত কোনো নিয়ম পরিবর্তন করে, তাহলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য প্রশাসনিক চাপ বাড়তে পারে।তবে আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এই মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষমতার সীমা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় রাজ্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ও ফেডারেল সরকারও নির্বাচনী ব্যবস্থার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই সীমারেখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটারদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মেইল ভোট বন্ধ হয়ে গেছে”—এমন দাবি দেখলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।যতক্ষণ না আদালত বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর করে, ততক্ষণ আগের নিয়মকে পরিবর্তিত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ভোট দেওয়ার যোগ্য, তারা নিজেদের রাজ্যের নির্বাচন অফিসের সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন। মেইল ব্যালটের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন এবং ব্যালট ফেরত পাঠানোর সময়সীমা রাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে।
এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল শুধু ২০২৬ সালের নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।