সুদের হার না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, ফেডকে ঘিরে নতুন চাপ

ফেডের সুদের হার কমানোর দাবিতে ট্রাম্পের নতুন হুমকি, বাণিজ্যনীতিকে চাপ হিসেবে ব্যবহারের বক্তব্যে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সুদের হার না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, ফেডকে ঘিরে নতুন চাপ

সুদের হার না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, ফেডকে ঘিরে নতুন চাপ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে প্রকাশ্যে চাপ সৃষ্টি করেছেন। শুক্রবার তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করতে পারেন যদি ফেড সুদের হার কমাতে রাজি না হয়।রয়টার্সের ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফেডকে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে কম সুদের হার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।


ট্রাম্পের বক্তব্য এসেছে এমন এক দিনে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাকরির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির রয়েছে। শক্তিশালী চাকরির বাজার সাধারণত ফেডের জন্য সুদের হার দ্রুত কমানোর চাপকে কিছুটা কমিয়ে দেয়।কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মনে করে আসছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম হওয়া উচিত। তার যুক্তি হলো, কম সুদ ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে, ডলারের ওপর চাপ কমাতে পারে এবং অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে পারে।


ফেডারেল রিজার্ভ অবশ্য রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী সুদের হার নির্ধারণ করে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মূল্যস্থিতি এবং সর্বোচ্চ টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ফলে সুদের হার নির্ধারণের সময় মূল্যস্ফীতি, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয়।

এখানে আগস্টের চাকরির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি বাড়ায় বাজারে ফেডের নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শক্তিশালী চাকরির তথ্যের পর বাজারে সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশায় পরিবর্তন এসেছে। 


ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য তাই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট চাইছেন সুদের হার কমুক; কিন্তু ফেড যদি মনে করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনও বেশি, তাহলে তারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এর সঙ্গে বাণিজ্যনীতিকে যুক্ত করার বিষয়টি আরও বিতর্ক তৈরি করেছে। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হলে আমদানি, রপ্তানি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি করা কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের চাহিদাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যদি অন্য দেশ পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।


ভোক্তাদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বাণিজ্য সীমিত হলে কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পণ্যের বড় অংশ বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর ক্ষেত্রে মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


অন্যদিকে কম সুদের হার হলে বাড়ি কেনার বন্ধকি ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের খরচ কমতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে ফেডের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কম সুদের হার সবসময় ইতিবাচক নয়। অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। সে কারণে ফেড সাধারণত অর্থনৈতিক তথ্য দেখে ধীরে সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডের সম্পর্ক এর আগেও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বর্তমান বক্তব্য সেই পুরোনো দ্বন্দ্বকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর