ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অভিবাসীবাহী নৌকায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, মৃত পাঁচজন নিখোঁজ বহু মানুষ

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে শতাধিক অভিবাসীবাহী নৌকা ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার, পাঁচজন মৃত এবং আরও বহু মানুষের নিখোঁজের আশঙ্কা।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অভিবাসীবাহী নৌকায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, মৃত পাঁচজন নিখোঁজ বহু মানুষ

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অভিবাসীবাহী নৌকায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, মৃত পাঁচজন নিখোঁজ বহু মানুষ


আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ আবারও একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র সামনে এনেছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে একটি নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এপি জানিয়েছে, নৌকাটি গ্রান কানারিয়ার প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নিতে হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই পুরুষ এবং তাদের অনেকেই মালি ও সেনেগালের নাগরিক বলে জানা গেছে। তারা প্রায় এক মাস আগে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকট, অতিরিক্ত গরম এবং পানিশূন্যতার কারণে যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। কয়েকজন তীরে পৌঁছানোর পরও অসুস্থ হয়ে পড়ে যান বলে এপি জানিয়েছে। 

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো, নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু ঘটার পর তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জীবিতরা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা পাঁচজন মৃত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। সমুদ্রের বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীদের জন্য কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়াকিং বর্ডার্সের প্রতিনিধি হেলেনা মালেনো দাবি করেছেন, পুরো যাত্রায় ৮৩ জন মারা যেতে পারেন। তবে এই সংখ্যা স্পেনের কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত মৃতের সংখ্যার চেয়ে বেশি এবং এটিকে চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। 

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর এই পথটি ইউরোপের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোর একটি। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা করেন।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের সন্ধান—এসব কারণ মানুষকে এমন বিপজ্জনক পথে যেতে বাধ্য করে বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

কিন্তু সমুদ্রপথে নিরাপত্তাহীনতা এত বেশি যে যাত্রীরা প্রায়ই পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াই দিনের পর দিন সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকেন।

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, ইউরোপে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কতটা জরুরি।

এখানে “সবাই মারা গেছে” বা “৮৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত”—এ ধরনের দাবি করা যাবে না। কারণ এপি’র নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে; আরও মৃত্যুর দাবি এসেছে একটি মানবাধিকার সংগঠনের কাছ থেকে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর