স্কুলে অপরাধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পাঁচ বছরে এক মিলিয়নের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে অপরাধের পরিসংখ্যান সামনে এনে এফবিআই বলছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বড়।
স্কুলে অপরাধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পাঁচ বছরে এক মিলিয়নের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত
২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো স্কুল এলাকায় ১০ লাখের বেশি অপরাধমূলক ঘটনা জানিয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ ভুক্তভোগী এবং ১২ লাখ পরিচিত সন্দেহভাজন/অপরাধীর তথ্য ছিল।
তবে এই পরিসংখ্যানকে “আজ এক মিলিয়ন অপরাধ হয়েছে” হিসেবে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ ভুল হবে। এটি পাঁচ বছরের সম্মিলিত তথ্য।এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে স্কুল এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ স্কুলে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা যে গুলি বা বড় ধরনের সহিংসতা—এমন ধারণা করা যাবে না।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুল অপরাধের সংখ্যা প্রকাশ করার সময় অনেকেই সব ঘটনাকে একই ধরনের সহিংস অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এফবিআইয়ের তথ্য সেই অর্থে ব্যবহার করা যাবে না।
তবুও পরিসংখ্যানটি উদ্বেগজনক, কারণ স্কুল শিশু ও তরুণদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে অপরাধের ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো স্কুল এলাকায় অপরাধের ধরন, ভুক্তভোগী এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য দেওয়া। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষা প্রশাসন নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে তৈরি করতে পারে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সময়কালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে মহামারির কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছিল। অনলাইন শিক্ষা, স্কুল পুনরায় খোলা এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক পরিবেশে নানা পরিবর্তন ঘটেছিল।স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তাই শুধু পুলিশ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সন্দেহজনক আচরণ দ্রুত শনাক্ত করা, জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সহায়তা করা—এসব বিষয় স্কুল নিরাপত্তার অংশ। এফবিআইয়ের তথ্য আরও দেখায়, স্কুল এলাকায় অপরাধের বিষয়টি একমাত্র কোনো একটি ধরনের অপরাধে সীমাবদ্ধ নয়। তাই শুধু বন্দুক হামলার সংখ্যা দিয়ে স্কুল নিরাপত্তার পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “ভুক্তভোগী” এবং “পরিচিত অপরাধী” সংখ্যার অর্থ একই নয়। একজন ব্যক্তি একাধিক ঘটনার ভুক্তভোগী হতে পারেন এবং অপরাধের প্রতিবেদনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিভুক্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে।তাই এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের সব স্কুলে একই মাত্রার অপরাধ চলছে—এমন সাধারণীকরণ করা ঠিক হবে না।