নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ

হিমবাহ ধস থেকে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ প্রায় চার হাজার মানুষ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ


নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের জীবিত থাকার আশা ক্রমেই কমে আসছে।


রয়টার্সের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও বরফ-শিলার ধসের পর আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৫০-এ পৌঁছেছে এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন শহর ও উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়ক, সেতু, বাড়িঘর এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছাতে পারছে না।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।চীনের তিব্বত অঞ্চলও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পক্ষ থেকে সেখানে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।


এই দুর্যোগের ভয়াবহতার অন্যতম কারণ হলো পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ করে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়া। নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

বন্যার পানিতে অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের প্রয়োজনও বেড়েছে।নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।


 হিমবাহ গলে যাওয়া, বরফ ও পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং অতিবৃষ্টির মতো ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক দুর্যোগটি শুধু একটি বন্যা নয়; এটি হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগঝুঁকির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।


উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কিছু এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিখোঁজদের পরিবারগুলো এখনো স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক পরিবার জানে না তাদের প্রিয়জন কোথায় আছেন বা তারা বেঁচে আছেন কি না।

এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীদের ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


ভবিষ্যতে হিমালয় অঞ্চলে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, নদী ও পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকি মানচিত্র, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।


বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজদের সন্ধান করা এবং জীবিতদের উদ্ধার করা। কিন্তু ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জীবিতদের সন্ধানের আশা কঠিন হয়ে উঠছে।

নেপালের এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পুরোপুরি জানতে উদ্ধার অভিযান ও সরকারি হিসাব আরও কিছুদিন সময় নিতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর