অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন কোটি কোটি ডলার

ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা বাড়ছে, ২০২৫ সালে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ ১.৩ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।

অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন কোটি কোটি ডলার

অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন কোটি কোটি ডলার


অনলাইনে পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মাত্রা পেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৯ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক রোমান্স স্ক্যামে অর্থ হারানোর কথা জানিয়েছেন। মোট ঘোষিত লোকসান ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

এই ধরনের প্রতারণায় সাধারণত প্রতারকরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

প্রথম পর্যায়ে তারা অর্থের কথা বলে না। বরং দীর্ঘদিন ধরে কথোপকথন চালায় এবং বিশ্বাস তৈরি করে।

প্রতারক কখনো নিজেকে বিদেশে কর্মরত ব্যক্তি, সেনাসদস্য, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিতে পারে। ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে অন্য কারও ছবি। কিছু ক্ষেত্রে প্রতারকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভুয়া ছবি ও ভিডিওও তৈরি করতে পারে।

সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর শুরু হয় অর্থের প্রসঙ্গ। বলা হতে পারে—জরুরি চিকিৎসা দরকার, ব্যবসায় সমস্যা হয়েছে, বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে পারছে না বা কোনো আইনি সমস্যায় পড়েছে।

ভুক্তভোগী আবেগের কারণে সাহায্য করতে রাজি হয়ে যেতে পারেন। এ ধরনের প্রতারণার সবচেয়ে কষ্টদায়ক দিক হলো, টাকা হারানোর পাশাপাশি মানুষ মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। কারণ তারা শুধু অর্থ হারান না, যে সম্পর্কটিকে সত্য মনে করেছিলেন সেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এপি জানিয়েছে, রোমান্স স্ক্যামের বৃদ্ধি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। একাকী মানুষ অনলাইনে সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে কখনো কখনো প্রতারকদের সহজ লক্ষ্য হয়ে ওঠেন। 

প্রতারকরা অনেক সময় ভুক্তভোগীকে পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিষয়টি গোপন রাখতেও বলে। এতে বাইরের কেউ সন্দেহ প্রকাশ করার সুযোগ পায় না। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী বড় অঙ্কের অর্থ পাঠিয়ে ফেলতে পারেন।

এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও কল করলেই যে ব্যক্তি সত্যি—এমন নিশ্চয়তা নেই। ছবি দিয়ে অনুসন্ধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পুরোনো তথ্য যাচাই এবং ব্যক্তির দেওয়া পরিচয়ের স্বাধীনভাবে যাচাই করা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—অনলাইনে পরিচিত কেউ যদি অর্থ চায়, তাহলে বিষয়টিকে অত্যন্ত সন্দেহের সঙ্গে দেখা উচিত। কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়া এবং তাকে অর্থ দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের দ্রুত রিপোর্ট করার পরামর্শ দেয়। কারণ টাকা যত দ্রুত বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেটে চলে যায়, তা উদ্ধার করা তত কঠিন হতে পারে।

রোমান্স স্ক্যাম এখন শুধু ডেটিং অ্যাপের সমস্যা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এই ধরনের প্রতারণা হতে পারে।তাই অনলাইনে আবেগের পাশাপাশি সতর্কতাও প্রয়োজন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর