ইরানে ৬০ হাজারের বেশি আটক, ৯৫০ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি USA ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ABC

২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরানে ব্যাপক ধরপাকড়, মৃত্যুদণ্ড এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে দেশটিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং অন্তত ৯৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে

ইরানে ৬০ হাজারের বেশি আটক, ৯৫০ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি USA ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ABC
ইরানে ৬০ হাজারের বেশি আটক, ৯৫০ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি USA ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ABC

জানুয়ারির বিক্ষোভের পর দমন-পীড়ন অব্যাহত; মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরানে ব্যাপক ধরপাকড়, মৃত্যুদণ্ড এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে দেশটিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং অন্তত ৯৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে ইরান সরকার এই সংখ্যাগুলো নিশ্চিত করেনি। ফলে আটক ও মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

৯৫০ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Abdorrahman Boroumand Center-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরানে ৯৫০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী এবং ২০ জন নারী রয়েছেন।

এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত একই সংগঠন ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ৯০১টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নথিভুক্ত করেছিল। এর মধ্যে ৫৬টি ঘটনা রাজনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত এবং ৯৮ জন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক আগস্টে জানিয়েছিলেন, ১৯ মার্চ থেকে ইরানে অন্তত ৫৬ জনকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জন বছরের শুরুর বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আরও শতাধিক ব্যক্তি একই ধরনের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তিনি সতর্ক করেন।

আগস্টেও মৃত্যুদণ্ড ও রাজনৈতিক মামলা

ইরানের মানবাধিকারকর্মীদের সংগঠন HRANA-এর আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসেই তারা ৭৮টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। একই সময়ে আদালত ২১টি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এর মধ্যে ইসফাহানের একটি মামলায় জানুয়ারির বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওদয়া হয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়।

HRANA আরও জানায়, আগস্টে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, বন্দিদের মারধর, একাকী কারাবাস এবং আইনজীবীর সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার একাধিক ঘটনাও তারা নথিভুক্ত করেছে।

জানুয়ারির বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসফাহানের বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া এরফান এসফানদিয়ারি ও গোল-মোহাম্মাদ মোহাম্মাদিকে ১৯ জুলাই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

৬০ হাজারের বেশি আটকের দাবি

জানুয়ারিতে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা কয়েক দশ হাজারে পৌঁছেছে।

Center for Human Rights in Iran-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের পর দশ হাজারের বেশি মানুষ আটক হওয়ার পাশাপাশি অনেককে তথাকথিত অনানুষ্ঠানিক বা "ব্ল্যাক বক্স" আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থানে পরিবার, আইনজীবী ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার না থাকায় নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং গোপন মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়।

ফক্স নিউজ ১ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে ৬০ হাজারের বেশি আটকের সংখ্যা উল্লেখ করেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্বাধীন সূত্রে তলব, আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের শিকার মানুষের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি হতে পারে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের উদ্বেগ

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভলকার তুর্ক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে মৃত্যুদণ্ডকে ভয় সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মে মাসে জানিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানে রাজনৈতিক অভিযোগে দণ্ডিত অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৭৮ জন বিক্ষোভকারী, ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে সংগঠনটি জানায়।

গুতেরেস-পেজেশকিয়ান বৈঠকেও প্রশ্ন

ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, SCO সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর জাতিসংঘের প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানে আটক বিক্ষোভকারী, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, গুতেরেস এর আগে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে এসব বিষয় সরাসরি উত্থাপন করেছেন।

প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা। ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংখ্যা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহত ও আটক ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা এখনও সম্ভব হয়নি এবং সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

ফলে ৬০ হাজারের বেশি আটক এবং ৯৫০ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা নিশ্চিত সরকারি পরিসংখ্যান নয়; এগুলো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নথিভুক্ত তথ্য ও অনুমানের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংখ্যা। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ২০২৬ সালে ইরানে ব্যাপক আটক, রাজনৈতিক মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

প্রধান সূত্র: Fox News-এর প্রতিবেদন, · HRANA-এর আগস্ট ২০২৬ প্রতিবেদন⁠, Reuters-এর জাতিসংঘভিত্তিক প্রতিবেদন⁠, Abdorrahman Boroumand Center-

প্রতিবেদক

CSB News USA

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…