সরকারি শাটডাউন এড়াতে দ্রুত অর্থায়ন বিল পাসের উদ্যোগ নিল মার্কিন কংগ্রেস

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সরকারি শাটডাউন ঠেকাতে কংগ্রেসে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বিল নিয়ে দ্রুত সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

সরকারি শাটডাউন এড়াতে দ্রুত অর্থায়ন বিল পাসের উদ্যোগ নিল মার্কিন কংগ্রেস

সরকারি শাটডাউন এড়াতে দ্রুত অর্থায়ন বিল পাসের উদ্যোগ নিল মার্কিন কংগ্রেস


মার্কিন কংগ্রেসে সরকারি অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমান অর্থায়নের মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকায় কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তার আগেই নতুন অর্থায়ন আইন পাস করা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সরকার বন্ধ হয়ে গেলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমান অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই কক্ষকে নিজেদের মতপার্থক্য মেটাতে হবে।

সরকারি শাটডাউন বলতে বোঝায়, কংগ্রেস প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আইন পাস করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল সরকারের কিছু কার্যক্রম অর্থের অভাবে বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়া। সব সরকারি সেবা একসঙ্গে বন্ধ হয় না; জরুরি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনেক কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে অনেক কর্মচারী সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন অথবা বেতন পেতে বিলম্ব হতে পারে।

শাটডাউনের রাজনৈতিক প্রভাবও বড়। কোনো প্রেসিডেন্টের সময় সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হলে বিরোধী দল সাধারণত এর দায় ক্ষমতাসীন দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। আবার ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের সহযোগিতা না করার জন্য দায়ী করতে পারে। ফলে অর্থায়ন বিল নিয়ে আলোচনা অনেক সময় শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দরকষাকষিতেও পরিণত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় রাজনৈতিক চাপ আরও বেশি।

 আইনপ্রণেতারা জানেন, শাটডাউন হলে সরকারি কর্মচারী, সামরিক কর্মী, বিমানবন্দর, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

আগস্টে সিনেট একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বিল পাস করেছিল। তবে প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। দুই কক্ষের বিলের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় সময়সীমার আগে চূড়ান্ত সমঝোতা জরুরি।

অর্থায়ন নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে অভিবাসন নীতিও জড়িত। রিপাবলিকানদের একটি অংশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন enforcement-এর জন্য বেশি অর্থ চায়। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ কিছু ধরনের অভিবাসন কার্যক্রমে সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানায়। ফলে অর্থায়ন বিল রাজনৈতিক নীতির লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে।

সরকারি শাটডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতিও হতে পারে। ফেডারেল কর্মীদের বেতন বিলম্বিত হলে তাদের ভোক্তা ব্যয় কমতে পারে। সরকারি সেবা বিলম্বিত হলে ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। পর্যটন, সরকারি অনুমোদন, গবেষণা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শাটডাউন এড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট চাইবেন, সরকারের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকুক এবং অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রশাসনের প্রচার বাধাগ্রস্ত না হোক।

কংগ্রেসের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। শাটডাউন হলে নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীরা এটিকে ক্ষমতাসীনদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

তবে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বিল দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। এটি মূলত সরকারকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চালু রাখে এবং বড় বাজেট আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়। ফলে এখন শাটডাউন এড়ানো গেলেও পরবর্তী সময়ে আবার অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হতে পারে।

মার্কিন সরকারের অর্থবছর শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। তাই ওই সময়সীমা পার হওয়ার আগে পূর্ণ অর্থায়ন আইন বা স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর আগে কংগ্রেসে একাধিকবার অর্থায়ন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ দেখা গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনপ্রণেতারা একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চাইছেন। এই দ্বৈত চাপই সমঝোতাকে কঠিন করছে।

 ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সরকারি অর্থায়ন নিয়ে চাপ তত বাড়ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শাটডাউন এড়াতে শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর