কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র, ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাবে কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র, ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে কানাডা

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র, ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে কানাডা


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।


রয়টার্স জানিয়েছে, কানাডার পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সম্পর্কগুলোর একটি ভাগ করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য দুই দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে। গাড়ি, কৃষিপণ্য, ইস্পাত, দুধজাত পণ্য, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য এই বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


শুল্ক বাড়লে আমদানিকারকদের খরচ বাড়ে। সেই বাড়তি খরচ অনেক সময় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে। ফলে কানাডার পণ্যে মার্কিন শুল্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। একইভাবে কানাডা যদি মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক দেয়, তাহলে কানাডার ভোক্তাদের জন্যও দাম বাড়তে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা, শিল্প প্রতিযোগিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয় নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। শুল্ক ব্যবহার করে কানাডাকে নতুন বাণিজ্য সমঝোতায় আনতে চায় ওয়াশিংটন।


কানাডা অবশ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাও সাম্প্রতিক সময়ে জটিল হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডা পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


এদিকে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশেও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাসকাচোয়ান ২৬ আগস্ট মার্কিন অ্যালকোহল পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। 


এ ধরনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুই দেশের সীমান্ত বহুবার অতিক্রম করতে পারে।


তাই সীমান্তে নতুন শুল্ক আরোপ হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি গাড়ির দামও বাড়তে পারে।


কৃষিখাতও ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা কানাডার বাজারে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করেন। কানাডা পাল্টা শুল্ক দিলে মার্কিন কৃষকদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি শুল্কযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ককে মার্কিন শিল্পকে শক্তিশালী করার একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক দিলে মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশে উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবে।


তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন শুল্ক স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পারে; অন্যদিকে অনেকে মনে করেন দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়ের খরচ বাড়ায়।


কানাডার সঙ্গে এই নতুন সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের বাণিজ্য বিষয় নয়; এটি উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


যদি দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তাহলে আরও পণ্যে শুল্ক বাড়তে পারে। এতে ব্যবসা, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর