হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
সুপ্রিম কোর্টের ৫–৪ সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে ট্রাম্পের বিতর্কিত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত থাকবে।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ আপাতত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ৫–৪ ভোটের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ইস্ট উইংয়ের অংশ ভেঙে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি নতুন স্থাপনা তৈরি করা হবে। সেখানে বলরুমের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনসহ কয়েকটি পক্ষ আইনি চ্যালেঞ্জ করেছে।তাদের যুক্তি, ফেডারেল সম্পত্তিতে এমন বড় পরিবর্তন আনার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
ঐতিহাসিক স্থাপনার চরিত্র পরিবর্তন নিয়েও সংরক্ষণবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্তে প্রকল্পের মূল আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি; বরং বর্তমান পর্যায়ে নির্মাণ বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে না গিয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এবং কয়েকজন উদারপন্থী বিচারপতি প্রকল্পটির আইনি অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের একটি বলরুম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। তার প্রশাসনের বক্তব্য, বর্তমান হোয়াইট হাউস ভবনে বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক এবং বড় সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটি বড় বলরুম প্রয়োজন বলে প্রশাসন দাবি করছে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি এবং ঐতিহাসিক ভবনের অংশ পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা উচিত ছিল। প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার জন্য বোমা আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে নির্মাণকাজ এখন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি।
এই ঘটনা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিনি ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও ফেডারেল সরকারের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার কথা বলে আসছেন।
বলরুম প্রকল্পটি সেই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলো অবশ্য জানিয়েছে, তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। তাদের আশঙ্কা, এই প্রকল্পের অনুমোদন ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টদের ঐতিহাসিক সরকারি স্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনার নজির তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের নিজস্ব প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
এই বিতর্কে এখন অর্থনৈতিক ব্যয়, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, কংগ্রেসের ভূমিকা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আপাতত নির্মাণকাজের পক্ষে গেলেও প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কোন আইনি অবস্থানে গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।