ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নতুন মার্কিন হামলা পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই জলপথ ব্যবহার করা হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত তৈরি হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। এর আগে ৩০ আগস্ট ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি লঞ্চারেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছিল।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে আগ্রাসন হিসেবে দেখছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এই জলপথের গুরুত্ব এত বেশি যে এখানে কয়েক দিনের বড় ধরনের অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, খাদ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। এ কারণে ইরান যুদ্ধ শুধু সামরিক বা পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক চান যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসুক। অর্থাৎ সামরিক সংঘাত দীর্ঘ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য বলছে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম মোকাবিলা করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কাছে তারা সহজে নতি স্বীকার করবে না।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং দুই পক্ষ আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরবে কি না। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক হামলা ও আলোচনার সম্ভাবনা একই সঙ্গে চললেও পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনা ও মিত্রদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যদি মার্কিন ঘাঁটি বা মিত্রদেশের স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাত কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ সামরিক সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ততই আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়বে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে।