ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার, বছরে গড় বৃদ্ধি ১.১৭ ট্রিলিয়ন
ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ বেড়েছে ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার, বছরে গড় বৃদ্ধি প্রায় ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার, বছরে গড় বৃদ্ধি ১.১৭ ট্রিলিয়ন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ প্রায় ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১০.৬৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে আট বছরে মোট বৃদ্ধি হয় প্রায় ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ডলারের হিসাবে ওবামার দুই মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ কোনো সম্পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তবে বছরে গড় বৃদ্ধির হিসাবে ওবামা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। এই হিসাব অনুযায়ী জো বাইডেনের চার বছরে বছরে গড় ঋণ বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২.১১ ট্রিলিয়ন ডলার, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ছিল প্রায় ১.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে জাতীয় ঋণ বৃদ্ধিকে সরাসরি কোনো এক প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও করসংক্রান্ত আইন কংগ্রেস পাস করে।
পাশাপাশি অর্থনৈতিক মন্দা, সরকারি ব্যয়, কর রাজস্ব, যুদ্ধ, জরুরি সহায়তা এবং আগের প্রশাসনের বাজেট সিদ্ধান্তও ঋণের ওপর প্রভাব ফেলে।
ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর প্রশাসনের শুরুতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সরকারি ব্যয় করা হয়। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির ব্যয় জাতীয় ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক।
ট্রেজারি বিভাগের সংজ্ঞা অনুযায়ী, জাতীয় ঋণ হলো সরকারের জমাকৃত মোট ঋণ—অর্থাৎ সরকারি ব্যয় রাজস্বের চেয়ে বেশি হলে সেই ঘাটতি পূরণে ধার নেওয়ার ফলে সময়ের সঙ্গে যে ঋণ জমা হয়।
তাই ওবামার সময়ে ৯.৩২ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বৃদ্ধি একটি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান হলেও, এর পুরো দায় শুধু প্রেসিডেন্টের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যথাযথ নয়।