যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নিয়োগ কমলেও ছাঁটাই এখনও তুলনামূলক কম
মার্কিন চাকরির বাজারে নিয়োগের গতি কমেছে, তবে ছাঁটাই ঐতিহাসিকভাবে নিচে থাকায় শ্রমবাজারে তৈরি হয়েছে নতুন ভারসাম্য।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নিয়োগ কমলেও ছাঁটাই এখনও তুলনামূলক কম
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ বা কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাইয়ের শ্রমবাজার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হচ্ছে, কিন্তু একই সময়ে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইও করছে না।
SIEPR-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চাকরির বাজারে নিয়োগের গতি কমে যায় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিও ধীর হয়ে আসে। একই সময়ে ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল।
এই পরিস্থিতির ফলে চাকরিতে থাকা কর্মীরা কিছুটা স্থিতিশীলতা পেলেও নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তরুণদের জন্য চাকরি পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে SIEPR-এর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এআইয়ের কারণে সামগ্রিক মার্কিন কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ধসের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পেশায় পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এআইয়ের মাধ্যমে যেসব কাজ সহজে স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব, সেখানে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৬ সালে শ্রমবাজারের অন্যতম বড় প্রশ্ন হবে—নিয়োগের গতি আবার বাড়বে, নাকি কম নিয়োগের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
SIEPR বলছে, অধিকাংশ পূর্বাভাসে মাঝারি মাত্রার চাকরি বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। তবে এআই, অর্থনৈতিক নীতি এবং সুদের হার শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই পরিস্থিতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ চাকরি, আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি ভোটারদের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।