যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগ
মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি, আবাসন ও শিশু যত্নের বাড়তি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করছে, নির্বাচনের আগেও।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বা অ্যাফোর্ডেবিলিটি ২০২৬ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। স্ট্যানফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অর্থনৈতিক আলোচনায় তত বেশি গুরুত্ব পাবে।
বিশেষ করে আবাসন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও শিশু যত্নের খরচ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলেও অনেক পরিবার মনে করছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ এখনও বেশি।
SIEPR-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতি নানা নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যেও স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে একই সময়ে শ্রমবাজারের গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
জ্বালানির দামও মানুষের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। SIEPR-এর আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে পড়ে, কারণ তাদের বাজেটের বড় অংশ পরিবহন ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়।
জ্বালানি ব্যয় বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। বিমান ভাড়া এবং উৎপাদন খরচের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা জানায়, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক সময় বাজারে পণ্য ও পরিষেবার প্রকৃত দামকে বেশি গুরুত্ব দেন।
ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বানাতে পারে।