পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল
মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধ ঘিরে ওয়াশিংটনে নতুন করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে আজ।
পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল
মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ৩১ আগস্টের এই পদত্যাগের বিষয়টি হোয়াইট হাউসও নিশ্চিত করেছে। তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্বে নতুন করে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ড্রিসকল প্রায় ১৮ মাস মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্বকালে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর জোর দেন।
তাঁর পদত্যাগের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ও উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর রূপান্তর, সামরিক প্রস্তুতি এবং জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুজনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের ঘটনায় ড্রিসকলের সঙ্গে হেগসেথের সম্পর্ক আরও খারাপ হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জর্জকে সরানোর সিদ্ধান্ত তাঁর সঙ্গে আগে আলোচনা করা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ড্রিসকল সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বেসরকারি খাতের প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার থেকে শিক্ষা নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও ড্রিসকল ভূমিকা রেখেছিলেন। ফলে তাঁর পদত্যাগ শুধু সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের কাজের প্রশংসা করেছে। মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তবে তাঁর পদত্যাগের সরকারি নির্দিষ্ট কারণ হোয়াইট হাউস প্রকাশ করেনি।
ড্রিসকলের পদত্যাগ এমন সময়ে হলো, যখন পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব পরিবর্তন হচ্ছে। তাঁর বিদায়ের ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক নেতৃত্বে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ রূপান্তর নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।