মাত্র ৯ দিনে ঘুষের ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ, আলোচনায় বাংলাদেশের ‘ঘুষ.সাইট’

চালুর মাত্র নয় দিনেই ঘুষ.সাইটে ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ, দাবিকৃত ঘুষের হিসাব ছাড়িয়েছে ৩২০ কোটি টাকা, দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া।

মাত্র ৯ দিনে ঘুষের ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ, আলোচনায় বাংলাদেশের ‘ঘুষ.সাইট’

মাত্র ৯ দিনে ঘুষের ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ, আলোচনায় বাংলাদেশের ‘ঘুষ.সাইট’


চালুর মাত্র নয় দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘ঘুষ.সাইট’ (GhushSite)। ৩১ আগস্ট প্রকাশিত আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটিতে সারাদেশ থেকে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

‘ঘুষ.সাইট’ মূলত সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের কাছে কথিত ঘুষ দাবির তথ্য বেনামে নথিভুক্ত করার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এটি গত ২১ আগস্ট চালু হয়। ব্যবহারকারীরা কোনো অ্যাকাউন্ট, নাম, ই-মেইল বা ফোন নম্বর না দিয়েই কোন দপ্তরে, কোন সেবার জন্য, আনুমানিক কত টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা দেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য জমা দিতে পারেন। 

ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তা সাইফ কবীর ও শাহেদ শরীফ। তাদের লক্ষ্য ব্যক্তিগত কোনো কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা নয়; বরং বিভিন্ন নাগরিকের অভিযোগ এক জায়গায় এনে কোথায় কী ধরনের ঘুষের দাবি করা হচ্ছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া তথ্য অযাচাইকৃত অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সেখানে প্রকাশিত কোনো অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিশ্চিত অভিযোগ হিসেবে দেখা যাবে না। ওয়েবসাইটটিও নিজেকে সরকারি অভিযোগ গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দাবি করে না।

প্ল্যাটফর্মটির বিশেষত্ব হলো, অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে দপ্তর, সেবা, এলাকা, দাবিকৃত অর্থ ও ফলাফল নথিভুক্ত করা হয়। প্রকাশের আগে জমা দেওয়া তথ্য থেকে ব্যক্তিগত পরিচয় ও আপত্তিকর তথ্য বাদ দেওয়ার জন্য পর্যালোচনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের পেছনে উদ্যোক্তাদের একজনের পরিবারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও ভূমিকা রেখেছে। মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। 

তবে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ বা ৩২১–৩৩২ কোটি টাকার হিসাবকে বাংলাদেশের প্রকৃত ঘুষের পরিমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। এগুলো ওয়েবসাইটে নাগরিকদের নিজেদের জমা দেওয়া অভিযোগের হিসাব এবং এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর