মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে নিতে চায় সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক, ঢাকার সামনে বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে নিতে চায় সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক, ঢাকার সামনে বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে নিতে চায় সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক, ঢাকার সামনে বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এখনো বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। ফলে এটি ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে চুক্তিটির অধীনে প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে তিন দেশ সৌদি আরবে একটি যৌথ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশকে এই জোটে যুক্ত করার বিষয়টি সামনে আসায় দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উষ্ণতা এবং ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের বিভিন্ন টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে দেশটির দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী রয়েছেন এবং সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ফলে যেকোনো নতুন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে এতে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হয়নি। বর্তমানে প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। তাই ‘বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দিয়েছে’—এমন দাবি এখনই সঠিক নয়।