যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সুখী শহর ফ্রেমন্ট, শীর্ষ পাঁচে চমক
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী শহর ফ্রেমন্ট, গবেষণায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহর, চমক দিয়ে তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে আরও চার শহর।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সুখী শহর ফ্রেমন্ট, শীর্ষ পাঁচে চমক
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য সবচেয়ে সুখী শহর হিসেবে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্ট। ২০২৬ সালের ওয়ালেটহাব গবেষণায় দেশটির ১৮২টি বড় শহরকে ২৯টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে ফ্রেমন্টকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে। শহরটির মোট স্কোর ৭৪ দশমিক ০৯।
গবেষণায় শহরগুলোকে মূলত তিনটি বড় ক্ষেত্রে তুলনা করা হয়েছে—মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, আয় ও কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পরিবেশ ও বসবাসের পরিবেশ। এর মধ্যে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্রেমন্ট মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে পুরো তালিকায় প্রথম হয়েছে। সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষেত্রেও শহরটির অবস্থান চতুর্থ। তবে আয় ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ফ্রেমন্টের অবস্থান ৮৯তম। অর্থাৎ শহরটির শীর্ষস্থান শুধু উচ্চ আয়ের কারণে নয়; স্বাস্থ্য, জীবনসন্তুষ্টি, সামাজিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানও বড় ভূমিকা রেখেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ফ্রেমন্টের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলারের বেশি। শহরটির বাসিন্দাদের জীবনসন্তুষ্টির হারও দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের সম্মিলিত হার মাত্র ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গবেষণায় সবচেয়ে কম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রেমন্টের বাসিন্দাদের মানসিক সুস্থতার সূচকও উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় শহরটি বিষণ্নতার হারের দিক থেকে সপ্তম সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে এবং মাসে ১৪ বা তার বেশি দিন মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন—এমন প্রাপ্তবয়স্কদের হারও সবচেয়ে কম।
ফ্রেমন্টের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নর্থ ডাকোটার বিসমার্ক, যার স্কোর ৭৩ দশমিক ১১। বিসমার্ক সামাজিক ও পরিবেশগত সূচকে পুরো দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে। বাসিন্দাদের ভালো স্বাস্থ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনিক অবসর সময়ের দিক থেকেও শহরটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার স্কটসডেল। শহরটির প্রায় ৮৭ শতাংশ বাসিন্দা নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। পাশাপাশি ভালো শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে শহরটি সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হয়েছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারমন্টের সাউথ বার্লিংটন এবং পঞ্চম স্থানে নর্থ ডাকোটার ফার্গো। ফলে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনার পাশাপাশি নর্থ ডাকোটা ও ভারমন্টের মতো তুলনামূলক ছোট শহরও জায়গা করে নিয়েছে।
২০২৬ সালের শীর্ষ দশের বাকি শহরগুলো হলো ওভারল্যান্ড পার্ক, চার্লস্টন, আরভাইন, গিলবার্ট ও সান হোসে। অর্থাৎ বড় ও পরিচিত মহানগরের পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট শহরগুলোও সুখী শহরের তালিকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
গবেষণার ফলাফল থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু বেশি বেতন বা ভালো চাকরিই সুখী জীবনের নিশ্চয়তা দেয় না। কম কর্মঘণ্টা, ছোট যাতায়াতের সময়, ভালো স্বাস্থ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, অবসর সময়, নিরাপত্তা, সামাজিক সম্পর্ক এবং বসবাসের পরিবেশও মানুষের জীবনসন্তুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ‘সবচেয়ে সুখী শহর’ একটি গবেষণাভিত্তিক র্যাঙ্কিং, ব্যক্তিগত সুখের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। ওয়ালেটহাব নির্দিষ্ট তথ্য ও সূচক ব্যবহার করে শহরগুলোর তুলনা করেছে; প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রা ও সুখের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে।