কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে যৌন পুতুলের বাজার, বাড়ছে নৈতিকতা ও নারী-বিদ্বেষের উদ্বেগ
প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির সাথে সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পুতুলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সমাজে নারী-বিদ্বেষ ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে যৌন পুতুলের বাজার, বাড়ছে নৈতিকতা ও নারী-বিদ্বেষের উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে যৌন পুতুলের (সেক্স ডল) বাজার। সাধারণ প্লাস্টিক বা সিলিকনের গণ্ডি পেরিয়ে এসব পণ্যে এখন যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম ব্যক্তিত্ব, সূক্ষ্ম অনুভূতি, স্পর্শ শনাক্ত করার উন্নত সেন্সর এবং নানা ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া। মানবদেহের নিখুঁত আদলে তৈরি এই হাইটেক পুতুলগুলো একদিকে যেমন প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে এর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের সাথে সাথে নারী-বিদ্বেষ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও গভীর নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এসব প্রযুক্তিভিত্তিক পুতুল মানুষের মধ্যে বাস্তবের সামাজিক ও আবেগীয় সম্পর্ক গঠনের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি জনশূন্য সড়কের পাশে স্যুটকেসে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। তবে পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় উদ্ঘটিত হয় এক অবিশ্বাস্য সত্য সেটি কোনো মানুষের দেহ ছিল না, বরং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি একটি যৌন পুতুল। পুতুলটির শরীরে কৃত্রিম আঘাতের চিহ্ন এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল যে দূর থেকে বাস্তব মরদেহ বলেই মনে হচ্ছিল। যদিও পুলিশি তদন্ত পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়, তবে ঘটনাটি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সহিংসতার মানসিক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যৌন পুতুলের বাজারের আনুমানিক মূল্য পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী দিনগুলোতে এই বাজার আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রযুক্তি ও মানব সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে বৈশ্বিক ভাবনার পরিধিকে আরও জটিল করে তুলছে।