ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে বড় নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চুক্তি

ভেনেজুয়েলার ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস মিলেছে

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে বড় নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চুক্তি

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে বড় নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চুক্তি


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। চুক্তিটির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং দেশটির প্রমাণিত মজুতের ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ তেল চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।


ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন, চুক্তিটির মেয়াদ ২৫ বছর। এর মাধ্যমে দেশটির ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ করে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও আটটি নতুন তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। 


চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। দেশটির সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের গড় মূল্য ৬৫ ডলার ধরে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হতে পারে। এর একটি অংশ সরাসরি ভেনেজুয়েলার সরকারি কোষাগারে যাবে। 


ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। দেশটির মোট প্রমাণিত মজুত ৩০ হাজার কোটি ব্যারেলের বেশি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব উল্লেখ করে। এর বড় অংশ অতি ভারী ধরনের অপরিশোধিত তেল, যা উত্তোলন ও পরিশোধনের জন্য বিশেষ অবকাঠামো প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 


চুক্তিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহার করে নিজেদের কৌশলগত জ্বালানি মজুত পুনরায় পূরণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই তেল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত ভরাটের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে পারে। 


তবে চুক্তিটি নিয়ে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, এত বড় প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্তগুলো আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সরকার বলছে, দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে এবং চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘদিন সংকটে থাকা তেলশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা।


বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এর বড় ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলভাণ্ডারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর