যুক্তরাষ্ট্রের পানি ব্যবস্থায় সাইবার হামলার আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার আশঙ্কা, অন্তত বারো অঙ্গরাজ্যে অনুপ্রবেশের খবর, নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি সতর্কতা জারি।

যুক্তরাষ্ট্রের পানি ব্যবস্থায় সাইবার হামলার আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের পানি ব্যবস্থায় সাইবার হামলার আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ


যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করছে। 


প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যে পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। মিনেসোটাতেই ৩০টির বেশি স্থানীয় পানি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার তথ্য সামনে এসেছে। 


হামলাকারীরা পানি ব্যবস্থার যেসব কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করে, সেগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পানির চাপ, পাম্প, ভালভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং পানির চাপ কমে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


জর্জিয়ার ক্লেটন কাউন্টির একটি পানি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে সাইবার কর্মকাণ্ডের পর পানির চাপ কমে যায় এবং সতর্কতামূলকভাবে ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে নিরাপদ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।


মার্কিন কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা, বিকল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে হাতে পরিচালনার প্রস্তুতি রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এমন পানি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র শনাক্ত করেছেন, যেগুলো এখনো সরাসরি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ছিল এবং কোথাও কোথাও কোনো পাসওয়ার্ড বা পুরোনো নির্ধারিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছিল।


হামলাগুলোর পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের সন্দেহ করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর