মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান, প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলা
মাদকবিরোধী অভিযানে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত দুই ব্যক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান, প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলা
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সন্দেহভাজন একটি মাদক পাচারকারী নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নৌযানটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত একটি নির্ধারিত পথে চলাচল করছিল।
মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার নৌযানটির ওপর হামলা চালানো হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নৌযানটিকে মাদক পাচারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে শনাক্ত করা হয়েছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি।হামলার পর নৌযানটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা দুজন নিহত হন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার সঙ্গে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে পানির ওপর একটি নৌযান চলাচল করতে দেখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই অভিযান মাদক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তাদের বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ। ওয়াশিংটনের দাবি, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মাদক পাচারের পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এই ধরনের সামরিক হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু আইন বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রাণঘাতী সামরিক হামলা চালানোর আইনগত ভিত্তি কতটা শক্তিশালী।
সমালোচকদের আরও দাবি, লক্ষ্যবস্তু নৌযানে মাদক থাকার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সবসময় প্রকাশ্যে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেয় না।মার্কিন প্রশাসন অবশ্য এই অভিযানকে মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হচ্ছে।সাম্প্রতিক এই হামলাটি দুই মাসেরও বেশি সময়ের বিরতির পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আবারও প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর ঘটনা। এর ফলে মাদকবিরোধী মার্কিন সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, একই অভিযানের আওতায় পরবর্তী সময়ে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সন্দেহভাজন মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি নৌযান ধ্বংস করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন বলছে, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের আইনগত বৈধতা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।