ট্রাম্পের নির্বাচনী অভিযোগ ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তুতি জোরদার

ট্রাম্পের নির্বাচনী অভিযোগ মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বাড়াতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ট্রাম্পের নির্বাচনী অভিযোগ ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তুতি জোরদার

ট্রাম্পের নির্বাচনী অভিযোগ ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তুতি জোরদার


যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তবে রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক প্রচার ও স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে প্রধান কৌশল হিসেবে নিয়েছেন। 


ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ভোট গণনা নয়, বরং ভোটারদের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়া। তাই বিভিন্ন কাউন্টির নির্বাচন কার্যালয় ভোটারদের কাছে ভোট গ্রহণ, ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় তুলে ধরছে। 


সান্তা ক্লারা কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তা ম্যাট মোরেলেস জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে নিয়মিত ও পরিষ্কার তথ্য সরবরাহ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। 


ফ্রেসনো কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তা জেমস কুসও স্বচ্ছতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন। কোনো ভোটার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে নথি ও প্রক্রিয়া দেখিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য যত বেশি প্রকাশ্য থাকবে, গুজবের সুযোগ তত কমবে।


ক্যালিফোর্নিয়ার পররাষ্ট্রসচিব শার্লি ওয়েবারের কার্যালয়ও নির্বাচনী বিভ্রান্তি মোকাবিলায় আলাদা তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ চালু করেছে। সেখানে ভোটারদের প্রচলিত গুজব ও দাবির বিপরীতে নির্বাচনী ব্যবস্থার বাস্তব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ভোটারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে উৎস যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।


এর পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তি, জনবল ও ভোট গণনার সক্ষমতায় নতুন অর্থ বিনিয়োগ করছে। আগস্টে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাউন্টিগুলোর কর্মী, প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম উন্নয়নে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার, স্থানীয় ভোটার সচেতনতায় ৫০ লাখ ডলার এবং রাজ্য পর্যায়ের সচেতনতায় আরও ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার রাখা হয়েছে। 


এদিকে ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগও ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের কিছু অংশ কার্যকরের পথ খুলে দেওয়ায় রাজ্যটির নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।


ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও বাড়িয়েছে। রাজ্য সরকার নির্বাচন সুরক্ষা ও ভোটারদের ভয়ভীতি থেকে রক্ষার জন্য নতুন আইন ও অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে।


নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন গুজবের জবাব রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং ভোটারদের সামনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তথ্য, নথি ও প্রমাণ প্রকাশের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তাদের লক্ষ্য হলো ভোটের দিন এবং ফলাফল ঘোষণার পরও মানুষের আস্থা ধরে রাখা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর