যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর অবস্থান, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর অবস্থান, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের ওপর নতুন করে চাপ বা হামলা চালানো হলে এর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক যুদ্ধে যেসব দেশ সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের তেল, আর্থিক নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চাপে ফেলা। এর জবাবে তেহরান এসব নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক আগ্রাসন হিসেবে দেখছে এবং জানিয়েছে, চাপ বাড়লে পরিস্থিতির পরিণতিও কঠিন হতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সামরিক জাহাজের চলাচল সীমিত করার বিষয় রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।
সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা।
তবে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাসের সংঘাতের পর পরিস্থিতি এখন ব্যয়বহুল অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, আর ইরান দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপও সামনে আরও বাড়তে পারে।
আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে উত্তেজনা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।