সোনিয়া ম্যাসি হত্যায় দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ২০ বছরের সাজায় মারা গেলেন
সোনিয়া ম্যাসি হত্যায় দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শন গ্রেসন ক্যানসারে ভুগছিলেন, চিকিৎসামুক্তির আবেদন নাকচের পর কারাগারেই মারা গেলেন।
সোনিয়া ম্যাসি হত্যায় দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ২০ বছরের সাজায় মারা গেলেন
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শন গ্রেসন কারাগারে মারা গেছেন। সোনিয়া ম্যাসি হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তিনি। রোববার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী ড্যানিয়েল ফাল্টজ। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
গ্রেসনের বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইলিনয়ের স্প্রিংফিল্ড এলাকার নিজ বাড়ির বাইরে সন্দেহজনকভাবে কেউ ঘোরাফেরা করছে এমন অভিযোগ জানিয়ে জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন ৩৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ নারী সোনিয়া ম্যাসি। তাঁর ফোনের পর স্যাঙ্গামন কাউন্টির দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর বাড়িতে যান। তাঁদের একজন ছিলেন গ্রেসন।
বাড়ির ভেতরের ঘটনার দৃশ্য পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ হয়েছিল। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাসি রান্নাঘরে ছিলেন এবং চুলার ওপর থাকা গরম পানির পাত্র সরানোর বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশনা পালন করছিলেন। পরিস্থিতির একপর্যায়ে তিনি ধর্মীয় বক্তব্য দেন এবং পরে ক্ষমা চান। এরপর গ্রেসন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
ঘটনার পর গ্রেসনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হলেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিচারকাজ শেষে জুরি তাঁকে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে আরও দুই বছর নজরদারির অধীনে থাকার বিধানও ছিল।
ম্যাসি হত্যাকাণ্ডটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের বলপ্রয়োগ, জাতিগত বৈষম্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে। ঘটনার পর ইলিনয়সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও স্যাঙ্গামন কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিষয়ে নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত পর্যালোচনা শুরু করে।
গ্রেসনের শারীরিক অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ছিল। ম্যাসিকে হত্যার ঘটনার আগেই তাঁর বৃহদান্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। পরে তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, রোগটি তাঁর যকৃত ও ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কারাগারে থাকার সময়ও তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের মে মাসে গ্রেসন গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় চিকিৎসার কারণে কারামুক্তির আবেদন করেন। তাঁর আবেদনে উন্নত পর্যায়ের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ইলিনয়ের বন্দি পর্যালোচনা বোর্ড গত জুলাইয়ে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তাঁকে কারাগারেই ২০ বছরের সাজা চালিয়ে যেতে হতো।
গ্রেসনের মৃত্যুর পর সোনিয়া ম্যাসির পরিবারের আইনজীবীরাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, গ্রেসনের ক্যানসারে কারাগারে মৃত্যু সোনিয়াকে ফিরিয়ে আনবে না। একই সঙ্গে তাঁরা গ্রেসনের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, ম্যাসির পরিবারকে তাঁর মৃত্যুর বেদনা সারাজীবন বহন করতে হবে।
গ্রেসনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর আইনজীবী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মৃত্যুর পরিস্থিতি বা নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেননি।