বিয়ের দুই দিন পর সেনাঘাঁটিতে নববধূকে আটক করল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
বিয়ের দুই দিন পর স্ত্রীকে সেনাঘাঁটিতে নিবন্ধন করতে গিয়ে পরিবারের সামনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে নববধূ আটক, চলছে আইনি প্রক্রিয়া।
বিয়ের দুই দিন পর সেনাঘাঁটিতে নববধূকে আটক করল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে বিয়ের মাত্র দুই দিন পর স্ত্রীকে পরিচয় নিবন্ধনের জন্য নিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির এক সেনাসদস্য। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সেনাঘাঁটির দর্শনার্থী কেন্দ্র থেকে তাঁর নববধূকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী মার্কিন সেনাসদস্য ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক গত মার্চে ২২ বছর বয়সী অ্যানি রামোসকে বিয়ে করেন। বিয়ের দুই দিন পর, ২ এপ্রিল, তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে যান। উদ্দেশ্য ছিল অ্যানিকে সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে নিবন্ধন করা এবং তাঁর জন্য সামরিক পরিচয়পত্র ও ঘাঁটিতে প্রবেশের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া।
ব্ল্যাঙ্কের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেছিলেন স্ত্রীকে নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করানোর মাধ্যমে তাঁর প্রাপ্য সামরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে এবং ভবিষ্যতে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সেনাঘাঁটিতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
অ্যানি রামোসকে সেখানকার দর্শনার্থী কেন্দ্র থেকেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয় এবং পরে লুইজিয়ানার বাসিল এলাকার একটি আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যানি রামোস হন্ডুরাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুই বছর বয়সেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন বলে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছেন এবং বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন। একটি বেসরকারি বৃত্তির সহায়তায় তাঁর পড়াশোনা চলছিল বলেও জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তরুণদের সুরক্ষার জন্য চালু করা কর্মসূচির আওতায় রামোস আবেদন করেছিলেন। তবে ২০২০ সালে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সেনাঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করার পর রামোসকে আটক করা হয় এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে রামোসের পক্ষ থেকে তাঁর আটক ও অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। একই সময় টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস সেনাঘাঁটিতেও সামরিক পরিবারের সঙ্গে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। প্রায় ২৮ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট জোসে সেরানোর স্ত্রী দেইসি রিভেরা ওর্তেগাকে অভিবাসনসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধার সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পর ১৪ এপ্রিল এল পাসোতে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক পরিবারের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সেনাসদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন পরিস্থিতি জটিল, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের বিদেশি নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের পথ সহজ করার একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না এবং প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচিত হয়।
অ্যানি রামোসকে পরে আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে এবং তাঁর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সামরিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে একজন মার্কিন সেনাসদস্যের বিদেশি নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করলে তাঁর অভিবাসন পরিস্থিতি কতটা নিরাপদ থাকে। বিশেষ করে বৈধ কাগজপত্র, স্থায়ী বসবাসের আবেদন এবং সামরিক পরিবারের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাগুলো কীভাবে কার্যকর হয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের অভিবাসন অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই আইনগত পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সামরিক বাহিনীর আইন সহায়তা কার্যালয় থেকেও যোগ্য ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে পারেন। তবে প্রতিটি অভিবাসন মামলা আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেশাদার আইনজীবীর পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিটি বর্তমানে ফোর্ট জনসন নামে পরিচিত। নববিবাহিত দম্পতির এই ঘটনা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবার ও অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।