নিউইয়র্কে মামদানির পিয়েদ-আ-তের কর বাস্তবায়নে বিচারকের সাময়িক স্থগিতাদেশ

নিউইয়র্কে মামদানির পিয়েদ-আ-তের কর বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশে থমকে গেল উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির কর কার্যক্রম।

PostImage

নিউইয়র্কে মামদানির পিয়েদ-আ-তের কর বাস্তবায়নে বিচারকের সাময়িক স্থগিতাদেশ


নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রস্তাবিত ‘পিয়েদ-আ-তের’ বা দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েন ওজ্জি বাড়ির মালিকদের করা মামলার পর এই আদেশ জারি করেন।

আদালতের আদেশের ফলে নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ আপাতত নতুন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে না। একই সঙ্গে করের সম্ভাব্য আওতায় থাকা সম্পত্তির মালিকদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলাটি করেছেন তিনজন নিউইয়র্কের বাড়ির মালিক—র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন, কারমিন মোরানো ও সাইমন হেডলি। তাদের অভিযোগ, তারা যে সম্পত্তিতে নিয়মিত বসবাস করেন, সেগুলোকেও সম্ভাব্য করযোগ্য সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলাকারীদের দাবি, শহরের অর্থ বিভাগ করযোগ্য সম্পত্তি শনাক্ত করার সময় পর্যাপ্তভাবে সরকারি নথি ও মালিকানার তথ্য যাচাই করেনি। এর ফলে অনেক প্রধান বাসস্থান ভুলভাবে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ এর আগে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার সম্পত্তির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে সরাসরি প্রায় ১৭ হাজার বাড়ির মালিককে সতর্কতামূলক নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে তালিকায় থাকা প্রতিটি সম্পত্তিই শেষ পর্যন্ত করের আওতায় পড়বে না।

‘পিয়েদ-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় বাড়ি বা শহরের বাসস্থানকে বোঝানো হয়, যেখানে মালিক স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। মামদানির প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ি এবং ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের কনডোমিনিয়াম ও সমবায় অ্যাপার্টমেন্টের মতো নির্দিষ্ট সম্পত্তি করের আওতায় আসতে পারে।

মামদানির প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কর থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এই অর্থ শহরের বিভিন্ন জনসেবা ও ব্যয় মেটাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। অনেক বাড়ির মালিক অভিযোগ করেছেন, তারা নিজেদের প্রধান বাসস্থানে বসবাস করলেও সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে নোটিশ পেয়েছেন। এতে বাড়ির মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, শহর কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়াই বিপুলসংখ্যক সম্পত্তিকে প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, তালিকাটি প্রাথমিক যাচাইয়ের অংশ এবং যেসব মালিক মনে করেন তাদের সম্পত্তি ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আপত্তি জানাতে পারবেন।

মামদানির প্রশাসন আদালতের আদেশের বিরোধিতা করেছে এবং কর ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই কর সাধারণ বাড়ির মালিকদের লক্ষ্য করে নয়; বরং উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করাই এর উদ্দেশ্য।

শহর কর্তৃপক্ষ করমুক্তির আবেদন ও আপত্তি জানানোর সুযোগও রেখেছে। ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির মালিকরা নিজেদের প্রধান বাসস্থান হিসেবে সম্পত্তির ব্যবহার প্রমাণ করে তালিকা থেকে বাদ পড়ার আবেদন করতে পারবেন।

আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মানে করটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে গেছে—এমন নয়। বর্তমানে শুধু কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেমে আছে। পরবর্তী শুনানিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে, পরিবর্তন করবে নাকি তুলে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মামদানির জন্য এই আদালতের আদেশ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব তার বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি অংশ। আদালতের বাধা দীর্ঘস্থায়ী হলে সেই রাজস্ব পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের পক্ষ বলছে, নতুন কর বাস্তবায়নের আগে সম্পত্তির মালিকানা ও বাসস্থানের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভুলভাবে করের আওতায় পড়া বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এখন মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা করতে পারে, আর মামলাকারীরা কর বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে আরও কঠোর আদালতীয় হস্তক্ষেপ চাইতে পারেন।

ফলে নিউইয়র্কে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর প্রস্তাবিত করের ভবিষ্যৎ আপাতত আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। করটি বাতিল হয়নি, তবে আদালতের আদেশের কারণে এর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে থেমে গেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর