মল অব যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, কারাগারেই থাকবেন ১৮ বছরের তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রের মল অব আমেরিকায় গুলির হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক তরুণকে মুক্তি দেননি আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে গুরুতর অভিযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জনপ্রিয় বিপণিবিতান মল অব আমেরিকায় প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। তদন্তকারীদের দাবি, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ওই তরুণ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযুক্ত তরুণের নাম শেখদুন আবদুল্লাহি মোহামুদ। তিনি মিনেসোটার রিচফিল্ড এলাকার বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ইসলামিক স্টেট বা আইএসের পক্ষে হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে মামলা করা হয়েছে। ১৯ অক্টোবরের শুনানিতে বিচারক ডুলস ফস্টার তাঁকে জামিনে মুক্তি না দিয়ে আটক রাখার সিদ্ধান্ত জানান। বিচারকের বিবেচনায়, তাঁকে মুক্তি দিলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই তরুণের সঙ্গে একজন গোপন তথ্যদাতার অনলাইনে যোগাযোগ চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে কয়েক শ বার কথোপকথন হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শুরুতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে বিদেশে যাওয়ার অর্থ জোগাড় করতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই হামলা চালানোর কথা বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিকল্পনার লক্ষ্য হয়ে ওঠে মিনেসোটার ব্লুমিংটন শহরে অবস্থিত মল অব আমেরিকা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিপণিবিতান। এখানে অসংখ্য দোকান, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটকদের আকর্ষণ রয়েছে। ফলে যেকোনো বড় হামলা বহু মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলতে পারত।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অক্টোবরের ২৪ তারিখে সেখানে হামলা চালানোর কথা বলেছিলেন। ওই দিন বিপণিবিতানটিতে হামং সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, অনুষ্ঠানটিতে অনেক মানুষের সমাগম হবে—এমন ধারণা থেকেই তিনি দিনটি বেছে নেওয়ার কথা জানান। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি ৩০ থেকে ৬০ জনকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এসব তথ্য প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ ও তদন্তের নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোকে আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
তদন্তের একপর্যায়ে এফবিআইয়ের একজন গোপন কর্মকর্তা ইসলামিক স্টেটের সদস্য পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ ধরনের রাইফেল, চারটি ম্যাগাজিন এবং প্রায় ২০০টি গুলি কেনার সময় তাঁকে আটক করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য তিনি প্রায় ৬০০ ডলার দিয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় রাইফেলটি এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল, যাতে সেটি দিয়ে গুলি চালানো সম্ভব না হয়। অস্ত্র কেনার পরপরই এফবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি উগ্রপন্থী প্রচারসামগ্রীও আদান-প্রদান করেছিলেন। এ কারণে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, পরিকল্পনাটি শুধু অনলাইন কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; অস্ত্র সংগ্রহের পর্যায়েও পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোপন তথ্যদাতার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হওয়ার সময় তরুণটির বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। আইনজীবী আরও যুক্তি দিয়েছেন, অস্ত্র পাওয়ার সুযোগটি তৈরি হয়েছিল এফবিআইয়ের তৎপরতার মাধ্যমে। তিনি কঠোর নজরদারি, বৈদ্যুতিন অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধের মতো শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোপন অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। অন্যদিকে, কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলেছেন, গোপন কর্মকর্তাদের ভূমিকা কখনো কখনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তবে এই মামলায় অভিযুক্তকে ফাঁসানো হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আপাতত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলবে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে থাকতে হবে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, আদালতের শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য এবং অভিযুক্তের আইনজীবীর বক্তব্য—সবকিছু বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হবে। আইন অনুযায়ী, আদালতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।





