মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে ইশরাক, পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে ইশরাক হোসেনের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়টি এখনো সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায়। সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর একজন জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার ও বিএনপিসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করা প্রত্যাশিত হলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে অস্ত্র নিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য অল্প সময়ের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয় এবং আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম ১৮ অক্টোবর জানান, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। ফলে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করছে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা এক বিষয় নয়। আত্মরক্ষার জন্য বৈধ অস্ত্র বহনের অনুমতি থাকলেও তা কী পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে ব্যবহার বা প্রদর্শন করা যাবে, সে বিষয়ে আইন ও বিধিমালা প্রযোজ্য। এ কারণে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট, নিরাপত্তার আশঙ্কা এবং অভিযানের সময় কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা এখন রাজনৈতিক বিতর্ক ও পুলিশি তদন্তের বিষয়। তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তাই পরবর্তী সরকারি ঘোষণা এবং তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগের খবর ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনি দায়—দুটিকেই সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।





