কিয়েভে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা রাশিয়ার, বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ছাড়ার সতর্কতা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
কিয়েভে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা রাশিয়ার, বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ছাড়ার সতর্কতা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রুশ হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (৩ অক্টোবর) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর রাশিয়ার ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর কথিত হামলার জবাব হিসেবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভ ও অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখবে।
একই বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার এবং দেশটিতে নতুন করে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো সতর্ক করেছে, এই পরামর্শ উপেক্ষা করে কেউ ইউক্রেনে অবস্থান করলে সম্ভাব্য ক্ষতির দায় তাদের নিজেদের ওপর বর্তাবে। তবে রাশিয়ার দেওয়া এই সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি দূতাবাসগুলো কিয়েভ ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এমন কোনো অনুরোধ বা তথ্য তারা পায়নি।
রাশিয়ার নতুন ঘোষণার আগে কয়েক দিন ধরেই কিয়েভে হামলার মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে দনিপ্রো নদীর ওপর থাকা একাধিক সেতুতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৩ অক্টোবর সকালে কিয়েভের নর্দার্ন ব্রিজে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানলে সড়কের কিছু অংশ এবং ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজন আহত হন এবং সাময়িকভাবে সেতুটিতে যান চলাচল সীমিত করা হয়।
এর আগের দিনও কিয়েভের সাউদার্ন ব্রিজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া যায়। এসব হামলার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং দনিপ্রো নদীর দুই তীরের মধ্যে যোগাযোগে চাপ বাড়ে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে এবং অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়ার নতুন ধরনের বিমান হামলার জবাবে ইউক্রেনও রুশ তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া শীতের আগে ইউক্রেনের শহরগুলোর অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এগুলো ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি; রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের হামলাকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেন্দ্রিক বলে বর্ণনা করছে।
এদিকে কিয়েভে হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক ও শস্যবাহী জাহাজ চলাচল ঘিরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ৩ অক্টোবর ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে রুশ হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়ার নতুন ঘোষণার ফলে কিয়েভে সামনের দিনগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত থাকতে পারে। তবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ভবিষ্যৎ হামলার নির্দিষ্ট সময়, পরিমাণ বা কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্য করা হবে—তা জানানো হয়নি। ফলে রাশিয়ার ঘোষণাকে হামলা অব্যাহত রাখার রাজনৈতিক ও সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা গেলেও ভবিষ্যৎ হামলার সুনির্দিষ্ট মাত্রা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।