ট্রাম্পের বড় বার্তা, টেক্সাসে প্যাক্সটনের জয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামলেন নিজেই
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প টেক্সাসে কেন প্যাক্সটনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেন, আলাবামা ও ওকলাহোমায় সফরের পেছনে কী বার্তা রয়েছে এবার
ট্রাম্পের বড় বার্তা, টেক্সাসে প্যাক্সটনের জয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামলেন নিজেই
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি টেক্সাস, ওকলাহোমা ও আলাবামায় সফর করছেন। টেক্সাসের দৌড়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানোই এবারের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিকগুলোর একটি। তবে আলাবামা ও ওকলাহোমায় যাওয়ার কারণ হিসেবে ট্রাম্প সমর্থকদের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলেছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সফরসূচি যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, ব্যবহারকারীর দেওয়া বক্তব্যের মূল রাজনৈতিক বক্তব্যটি সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও উদ্ধৃত প্রতিটি বাক্যের হুবহু শব্দবন্ধ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
১ অক্টোবর টেক্সাসের ডেন্টনে পিটারবিল্টের ট্রাক কারখানায় যান ট্রাম্প। সেখানে তিনি অর্থনীতি, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি টেক্সাসের মার্কিন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নেন। প্যাক্সটন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প তাকে দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং নিজের প্রতি অনুগত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্যাক্সটনকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের একজন বলেও প্রশংসা করেন।
ট্রাম্পের টেক্সাস সফরটি কেবল একটি সরকারি কারখানা পরিদর্শন ছিল না। বক্তব্যের বড় একটি অংশে তিনি আসন্ন নির্বাচনের কথাও বলেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে তিনি টেক্সাসে একাধিকবার যাবেন এবং প্যাক্সটনের নির্বাচনী প্রচারে সহায়তা করবেন। সেই বক্তব্যে তিনি প্যাক্সটনকে জয়ী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট করেছিলেন।
টেক্সাসের নির্বাচনটি কেন ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বড় কারণ হলো মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে দলটির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প তাই নিজের নির্বাচনী প্রচারের বড় অংশ টেক্সাসে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
প্যাক্সটন ২০২৬ সালের রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে দীর্ঘদিনের সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান। প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্প প্যাক্সটনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে এখন সাধারণ নির্বাচনে প্যাক্সটনের ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা তৈরি করছে।
প্যাক্সটন বর্তমানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপ পরিবর্তনশীল এবং এগুলো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। তাই এই মুহূর্তে কে জয়ী হবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ট্রাম্পের টেক্সাস সফরের সময় প্যাক্সটনকে ঘিরে আরেকটি বিষয়ও সামনে আসে। প্যাক্সটনের একটি কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্যাক্সটনের প্রচারশিবির ওই রেকর্ডকে বিকৃত বা পরিবর্তিত বলে দাবি করেছে। তবে রেকর্ডটির সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে সবকিছু নিশ্চিত করা যায়নি।
এই ঘটনার পরও ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্যাক্সটনের প্রতি সমর্থন বজায় রাখেন। ডেন্টনের অনুষ্ঠানে তিনি প্যাক্সটনের দীর্ঘদিনের আনুগত্যের কথা বলেন। একই সঙ্গে মজার ভঙ্গিতে প্যাক্সটনকে কখনো কখনো বিরক্তিকর মনে হয় বলেও মন্তব্য করেন। প্যাক্সটন তখন অনুষ্ঠানস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। এই মন্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
এরপর ট্রাম্প ওকলাহোমার ডুরান্টে যান। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক মাজাইয়ের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সেখানে মিশিগান, টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান এবং সমর্থকদের অন্য অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
ওকলাহোমা সফরের আরেকটি তাৎপর্য হলো, এটি এমন একটি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সফরটির উদ্দেশ্য শুধু কোনো একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রচারণা চালানো নয়, বরং দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় রাখা এবং নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্প এরপর আলাবামায় যান। ২ অক্টোবর মোবাইলে তিনি সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালান। সেখানে তিনি আলাবামার গভর্নর পদপ্রার্থী টমি টিউবারভিল ও প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী রেট মার্কেজের প্রতি সমর্থন জানান। আলাবামা সাধারণত রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাম্প সেখানে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সময় দিচ্ছেন।
আলাবামা সফর নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্স জানিয়েছে, টেক্সাসে পৌঁছানোর সময় তিনি এই সফরগুলোকে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতি সম্মানের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যেগুলো তার তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচেষ্টায় তাকে সমর্থন করেছে। অর্থাৎ আলাবামা ও ওকলাহোমায় যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের সমর্থকভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে আরেকটি বড় বিষয় হলো সময়। ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প ৩২ দিনের একটি ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকায় গিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ভিডিও তালিকাতেও ১ অক্টোবর টেক্সাস সফরের সরকারি কার্যক্রমের ভিডিও রয়েছে। সেখানে পিটারবিল্ট কারখানা পরিদর্শনের রেকর্ড রাখা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের টেক্সাস সফর এবং ওই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তবে ব্যবহারকারীর দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে থাকা ‘আমি এখানে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি’ ধরনের নির্দিষ্ট বাক্য এবং আলাবামা ও ওকলাহোমা সফরকে ঠিক ‘সম্মানের নিদর্শন’ হিসেবে কোন প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ হুবহু প্রতিলিপি আমি নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্রে পাইনি। তাই সেটিকে সরাসরি শব্দে শব্দে নিশ্চিত উদ্ধৃতি হিসেবে না লিখে, যাচাই করা বক্তব্যের সারাংশ হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ।