ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বললেন আমিরাতের উপদেষ্টা
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে ক্যাপ্টেনের ওপর কো-পাইলটের হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বললেন আমিরাতের উপদেষ্টা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ক্যাপ্টেনের ওপর কো-পাইলটের হামলার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। একই সঙ্গে হামলার মধ্যেও বিমানটি নিরাপদে অবতরণে ভূমিকা রাখা ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারের সাহস, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে। সৌদি আরবের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটে কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন। এতে দুজনই আহত হন। পরিস্থিতির কারণে বিমানটি গন্তব্যে না গিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
হামলায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার গুরুতর আহত হলেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমানে থাকা অতিরিক্ত দুই পাইলটও পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করে।
ঘটনার পর আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারের প্রশংসা করে বলেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তিনি সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। গারগাশ তাঁর বক্তব্যে ঘটনাটিকে একটি গুরুতর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
তবে গারগাশের বক্তব্যের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘটনাটির পূর্ণ উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিষয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছেন। তদন্তে ঘটনার কারণ, উদ্দেশ্য, এটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল কি না এবং কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নির্দেশনার সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমাননির্ভর বা যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে গারগাশ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
এদিকে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিকিৎসাধীন। ২ অক্টোবর তিনি হাসপাতাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং জানান, গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবন রক্ষার কথা ভেবেছিলেন।