ন্যাটোর ধারা ৫ নিয়ে ফিকোর সংশয়, মিত্ররা স্লোভাকিয়াকে রক্ষা করবে কি না প্রশ্ন
ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় জানিয়েছেন স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। ইউরোপীয় সংহতি নিয়েও তুলেছেন প্রশ্ন।
ন্যাটোর ধারা ৫ নিয়ে ফিকোর সংশয়, মিত্ররা স্লোভাকিয়াকে রক্ষা করবে কি না প্রশ্ন
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ধারা ৫ নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি স্লোভাকিয়ার প্রেসভ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, তিনি চান না ন্যাটোর ধারা ৫-এর কারণে স্লোভাকিয়া কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ুক। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ফিকোর বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্লোভাকিয়ার জোটের সহযোগিতা ও দায়িত্বের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো স্লোভাকিয়াকে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে দূরে রাখা। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন, যেখানে স্লোভাকিয়াকে কোনো সংঘাতে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।
ন্যাটোর ধারা ৫ অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত সদস্যকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে প্রতিটি মিত্রদেশ কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই রকম নয়। ফিকোও পরবর্তী বক্তব্যে এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, প্রকৃত সশস্ত্র হামলা হলে ধারা ৫ অনুযায়ী স্লোভাকিয়ার সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু এর অর্থ সরাসরি সেনা পাঠানো নয়।
ফিকোর মন্তব্যের পর চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেতর পাভেল তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। পাভেলের মতে, ন্যাটোর কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো জোটের সংহতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর জবাবে ফিকো বলেন, তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিকে অগ্রাধিকার দেন এবং স্লোভাকিয়াকে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়াতে চান না।
এদিকে ফিকোর সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে ইউরোপের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল স্লোভাকিয়া সফরের সময় রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করেন এবং ইউরোপীয় ঐক্য ও ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
ফিকোর বক্তব্যের পর ন্যাটোর ধারা ৫, ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যকে স্লোভাকিয়ার ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ফিকো একই সঙ্গে স্লোভাকিয়ার ন্যাটো সদস্যপদ ও জোটের সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।