তদন্তের মধ্যেই ডিসির বদলি, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল বিতর্কিত নিয়োগে এবার কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?

ডিসির বদলির পরও থামেনি পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুলের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ বিতর্ক, তদন্তে অনিয়ম মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে?

তদন্তের মধ্যেই ডিসির বদলি, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল বিতর্কিত নিয়োগে এবার কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?

তদন্তের মধ্যেই ডিসির বদলি, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল বিতর্কিত নিয়োগে এবার কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?


পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বদলি হয়েছেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তাঁর বদলির পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যে নিয়োগকে ঘিরে এত অভিযোগ, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায়। তবে ডিসির বদলি হলেও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা উপাধ্যক্ষের নিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় পটুয়াখালীবাসী।

পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, যাঁর নিয়োগকে ঘিরে এত অভিযোগ ও সমালোচনা, তদন্ত শেষে তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে?

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মোসা. শাহানারা আক্তারকে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। 

নিয়োগের পর থেকেই তাঁর যোগ্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত তিনি পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষের মতো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিয়োগের স্বচ্ছতা, প্রার্থী বাছাই এবং অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নিয়োগটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি থাকায় তাঁর স্বাক্ষরে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে শাহানারা আক্তার অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাঁর এনটিআরসিএর নিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী নিয়োগে অনিয়ম বা ব্যক্তিগত সখ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মাত্র দুজন প্রার্থী পাওয়া যায় এবং তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করা হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকায় শাহানারা আক্তারকে স্থায়ীভাবে নয়, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নজরেও এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেশের কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পটুয়াখালীর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে অর্থ বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিমকে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে পদায়নের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 

ফলে নিয়োগ নিয়ে তদন্ত চলার সময়ই ডিসির বদলি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকাশিত সরকারি পদায়নসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী ড. শহীদ হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন ডিসি সম্প্রতি উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তাঁদের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তাঁর বদলির সঙ্গে কালেক্টরেট স্কুলের উপাধ্যক্ষ নিয়োগের তদন্তের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই।

তবে সময়ের দিক থেকে দুটি ঘটনা পাশাপাশি ঘটায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের তদন্ত চলছে, অন্যদিকে যিনি নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন সেই তৎকালীন জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী থেকে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্বে গেছেন।

এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তদন্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় কি না এবং পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—তৎকালীন ডিসি বদলি হলেও যাঁকে ঘিরে মূল নিয়োগ বিতর্ক, সেই উপাধ্যক্ষ শাহানারা আক্তারের বর্তমান অবস্থান কী হবে? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নিয়োগ বহাল থাকবে কি না, তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাঁর নিয়োগের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নাকি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়েবসাইটেও শাহানারা আক্তারকে বর্তমানে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। 

ফলে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলির পরও কালেক্টরেট স্কুলের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়নি। বরং এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তদন্তের ফলাফল এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর