রুশ জেটচালিত ড্রোনের হামলা ঠেকাতে এফ-১৬-এর কামানের গোলা চাইছে ইউক্রেন

রাশিয়ার দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ২০ মিমি কামানের গোলাবারুদ সংগ্রহে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে ইউক্রেন।

রুশ জেটচালিত ড্রোনের হামলা ঠেকাতে এফ-১৬-এর কামানের গোলা চাইছে ইউক্রেন

রুশ জেটচালিত ড্রোনের হামলা ঠেকাতে এফ-১৬-এর কামানের গোলা চাইছে ইউক্রেন


রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোনের হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন তার এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে ২০ মিমি কামান ব্যবহারের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে। এ জন্য কিয়েভ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও গোলাবারুদ নির্মাতার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ২০ মিমি গোলাবারুদ সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রয়োজন হতে পারে কয়েক দশ হাজার গোলাবারুদ, আর বর্তমান হামলার মাত্রা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ১০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাশিয়ার নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি। প্রচলিত ধীরগতির ড্রোনের তুলনায় এসব ড্রোন অনেক দ্রুতগতিতে উড়তে পারে, ফলে ইউক্রেনের কিছু প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, একদিনে ১২০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৯০টি ছিল জেটচালিত।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোও আকাশ প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগে জেটচালিত ড্রোন ধ্বংস করতে এফ-১৬ থেকে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল এবং মজুতও সীমিত। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী যুদ্ধবিমানের নিজস্ব ২০ মিমি কামান ব্যবহার করে ড্রোন ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন ধ্বংস করতে গড়ে প্রায় ১৫০টি ২০ মিমি গোলা প্রয়োজন হতে পারে। রাশিয়ার হামলার বর্তমান মাত্রা অব্যাহত থাকলে ইউক্রেনের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ১০ হাজার গোলায় পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এই হিসাবটি ইউক্রেন সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক চাহিদা নয়; এটি আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের দেওয়া অনুমান।

ইউক্রেনের জন্য কামানের গোলাবারুদ ব্যবহারের আরেকটি কারণ হলো ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংরক্ষণ করা। এফ-১৬ থেকে ছোড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য লক্ষ্য মোকাবিলায়ও প্রয়োজন হতে পারে। তাই যেখানে সম্ভব, কামান বা অন্য কম ব্যয়বহুল প্রতিরোধব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে কিয়েভ।

তবে এফ-১৬-এর কামান দিয়ে দ্রুতগতির ড্রোন ধ্বংস করাও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তুর তুলনামূলক কাছাকাছি যেতে হয়, ফলে বিমান ও পাইলট উভয়ের জন্য ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ড্রোন ধ্বংসের পর তার ধ্বংসাবশেষও যুদ্ধবিমানের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারাও এমন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।

একই সঙ্গে ইউক্রেন জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় নতুন ধরনের নিজস্ব প্রতিরোধী ড্রোন তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। এপি জানিয়েছে, রাশিয়ার দ্রুতগতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং কিয়েভ দ্রুতগতির নিজস্ব প্রতিরোধী ড্রোনসহ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে।

এদিকে ইউক্রেনের এফ-১৬ বহরও আরও বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। বেলজিয়াম ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও তিনটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ইউক্রেনে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর পাশাপাশি বেলজিয়াম, স্পেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে এফ-১৬-এর জন্য গোলাবারুদ ও অন্যান্য সহায়তাও পেয়েছে ইউক্রেন।

রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ায় ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষায় একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এফ-১৬-এর ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ২০ মিমি কামানের গোলাবারুদ সংগ্রহ এবং নিজস্ব দ্রুতগতির প্রতিরোধী ড্রোন তৈরির উদ্যোগ সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারই অংশ। যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুতগতির এসব ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন কী পরিমাণ গোলাবারুদ সংগ্রহ করতে পারে এবং নতুন প্রতিরোধব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর