গ্রেপ্তারের সময় চারবার গুলি, নির্যাতনের অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি বিক্ষোভকারী

গ্রেপ্তারের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আটক অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইরানের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিক্ষোভকারী আলিরেজা সেপাহিকে ঘিরে।

গ্রেপ্তারের সময় চারবার গুলি, নির্যাতনের অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি বিক্ষোভকারী
গ্রেপ্তারের সময় চারবার গুলি, নির্যাতনের অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডের মুখে ইরানি বিক্ষোভকারী

ইরানের ইসফাহানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিক্ষোভকারী আলিরেজা সেপাহিকে গ্রেপ্তারের সময় নিরাপত্তা বাহিনী চারবার গুলি করেছিল এবং পরে আটক অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সাবেক এক সহবন্দির বর্ণনা উদ্ধৃত করে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গুলিতে তাঁর দুই পায়ে আঘাত লাগে এবং এসব ক্ষত থেকে সুস্থ হতে তাঁর প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল। তবে নির্যাতনের এই অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া বিক্ষোভের পর ইসফাহানে আলিরেজা সেপাহিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারের একটি ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত হন। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছিলেন। এই মামলায় আলিরেজাসহ অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

মানবাধিকার সূত্রগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিরেজার মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর আইনজীবীর মামলার নথিতে কার্যকরভাবে প্রবেশাধিকার না থাকা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন আসামির কাছ থেকে চাপ ও নির্যাতনের মাধ্যমে বক্তব্য আদায় করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত হয়েছে—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আলিরেজার চাচাতো ভাই আবোলফজল সেপাহি বাদজানি এবং আরেক আসামি আমিরহোসেইন সাফারি হোসেইনাবাদিকে ২৮ জুলাই ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই দিন আলিরেজারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আবার দাস্তগের্দ কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সূত্র তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতাকে স্ট্রোক বা হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর সমস্যার সঙ্গে বর্ণনা করেছে।

বর্তমানে আলিরেজা সেপাহি দাস্তগের্দ কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর পুনর্বিচারের আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর মামলাটি আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর্যায়ে ফিরে গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরও কয়েকজনের সাজা কার্যকর হয়েছে এবং বাকিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি রয়েছে।

ইরানে ২০২৬ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, অনেক মামলায় দ্রুত বিচার, নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ এবং আসামিদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তবে আলিরেজা সেপাহির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তাঁর মামলার সব প্রমাণ সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই গ্রেপ্তারের সময় গুলি ও পরবর্তী নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে বর্তমানে অভিযোগ ও প্রত্যক্ষ বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপন করাই তথ্যগতভাবে সতর্ক পদ্ধতি।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…