যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ইস্পাত কারখানা, এশারের রাশিয়া-যোগ ঘিরে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ইস্পাত কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা এশার গ্রুপের রাশিয়ার সঙ্গে পুরোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ইস্পাত কারখানা, এশারের রাশিয়া-যোগ ঘিরে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বড় ইস্পাত কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। ভারতের এশার গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত মেসাবি মেটালিকস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানাটিতে প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করা হবে এবং পরবর্তীতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মিনেসোটায় লৌহ আকরিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমও যুক্ত থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এত বড় বিনিয়োগের ঘোষণা আসার পর এশার গ্রুপের রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে এশার গ্রুপ তাদের তেল শোধনাগার ব্যবসা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোজনেফটের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে প্রায় ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে। ওই ব্যবসা পরবর্তীতে নায়ারা এনার্জি নামে পরিচালিত হয়। বর্তমানে রোজনেফটের নায়ারা এনার্জিতে প্রায় ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পরও নায়ারা এনার্জির সঙ্গে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাদিনার শোধনাগারে রুশ অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে রাশিয়ার ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মস্কোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কমানোর নীতির মধ্যে এশার গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্রে এই বিশাল বিনিয়োগকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এই ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ইস্পাত প্রকল্পটি রাশিয়ার অর্থায়নে হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিতর্কের মূল বিষয় হলো প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এশার গ্রুপের রাশিয়ার জ্বালানি খাতে অতীত ও বর্তমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক। মার্কিন প্রশাসন অন্যদিকে প্রকল্পটিকে দেশীয় ইস্পাত উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।