দোভালের ঢাকা সফর ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, আলোচনায় তারেকের দিল্লি সফর ও হাসিনার প্রত্যর্পণ

দোভালের ঢাকা সফর ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা, সামনে এসেছে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

দোভালের ঢাকা সফর ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, আলোচনায় তারেকের দিল্লি সফর ও হাসিনার প্রত্যর্পণ

দোভালের ঢাকা সফর ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, আলোচনায় তারেকের দিল্লি সফর ও হাসিনার প্রত্যর্পণ


বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর দোভাল ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর এই সফরকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। তবে দোভালের ঢাকা সফর সম্পর্কে বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে সফরের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেডিফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দোভাল ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রায় দিনের তিন-চতুর্থাংশ সময় অবস্থান করেন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য এসব আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তসীমান্ত চলাচল, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে নিশ্চিত সফরসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দোভালের ঢাকা সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু। বিশেষ করে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, জ্বালানি ও নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা বা প্রত্যর্পণের বিষয়টিও ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও এর আগে জানিয়েছিলেন, বিদেশে অবস্থানরত দণ্ডিত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনা চলতি বছরের জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে তাঁর সম্ভাব্য ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে অজিত দোভালের ঢাকা সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখনো কোনো সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।

বিশেষ করে দোভাল ঢাকায় এসে শেখ হাসিনার ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ বা তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে প্রকাশ্য সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাই দোভালের সফরকে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখার পরিবর্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

অজিত দোভালের ঢাকা সফর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে দোভালের সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের সময়সূচি এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে বাংলাদেশ ও ভারতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর