হাউসের ক্ষমতা ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি ডেমোক্র্যাটদের

আমেরিকায় প্রতিনিধি পরিষদের কর্তৃত্ব ফিরে পেলে ট্রাম্প পরিবার ও সরকারের নীতিমালার সার্বিক অনুসন্ধানে নামবে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা, এমনটিই জানা গেছে।

PostImage

হাউসের ক্ষমতা ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি ডেমোক্র্যাটদের


আমেরিকায় আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর পরিবার এবং পুরো প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ব্যাপক পরিসরের তদন্ত চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে এই তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনে ট্রাম্পের পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিশংসনের প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।  


হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ লাভ করবেন, যা তাদের প্রশাসনিক তদারকি, জরুরি তলব বা সমন জারি এবং বাজেট বরাদ্দের মতো শক্তিশালী বিচারিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সুযোগ করে দেবে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য স্পিকার ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জনগণের অর্থের যেকোনো অপব্যবহার কিংবা প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।  


ইতিমধ্যেই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে নিয়মিত তথ্য চেয়ে পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। প্রতিনিধি পরিষদে আধিপত্য তৈরি করতে পারলে এসব প্রাথমিক পদক্ষেপই আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রূপান্তরিত হতে পারে।  


তদন্তের সম্ভাব্য তালিকার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে ট্রাম্প পরিবার ও তাঁদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদের যে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি ঘটেছে, সে বিষয়টিতে নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাম্প জুনিয়রের একটি পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠানের আংশিক অর্থায়নে রাশিয়ার একজন ধনকুবেরের নাম জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প পরিবারের পক্ষ থেকে যে পরোক্ষ স্বীকৃতি এসেছে, তাও এই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।  


আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতির বিষয়েও বেশ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেগরি মিক্সের মতে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ইরানের সাথে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান ও মার্কিন নীতি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া জাতীয় সুরক্ষা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মাধ্যমে অভিবাসীদের দূরবর্তী দেশে ফেরত পাঠানো, আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আটক করা এবং বিভিন্ন অভিযানে সাধারণ আমেরিকানদের ক্ষতি হওয়ার ঘটনাগুলোকেও বিশেষ তদারকির তালিকায় রাখা হয়েছে।  
সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জ্যারেড হাফম্যান প্রেসিডেন্ট ভবন বা হোয়াইট হাউসের পূর্ব অংশ ভেঙে বড় আকৃতির নতুন নাচঘর নির্মাণ এবং বিতর্কিত অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আন্তর্জাতিক খনিজসম্পদ চুক্তি এবং অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিদের সরাসরি তলব করে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করা হবে।  


একই সাথে ডেমোক্র্যাটদের নজর রয়েছে সাবেক শিল্পপতি জেফ্রি অ্যাপস্টেইন সম্পর্কিত অতীত তদন্তের অগ্রগতি, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তরের নীতিমালা এবং বৃহৎ কর্পোরেট বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থসংক্রান্ত ব্যবস্থার ওপর। হাউসের বিচারবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান জ্রেমি রাসকিন উল্লেখ করেছেন, সরকারি অর্থের বড় ধরনের ক্ষতি রোধ এবং নতুন আইন প্রণয়নের স্বার্থেই এসব প্রশাসনিক উদ্যোগকে জোরালো করা দরকার।  
সব মিলিয়ে, নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের একক কর্তৃত্ব লাভ করলে হোয়াইট হাউসের ওপর চরম প্রশাসনিক ও আইনি চাপ তৈরি করতে চলেছে বিরোধীরা। তবে এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবে রূপ নেবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চূড়ান্ত নির্বাচনের ফলাফল এবং প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতার সমীকরণের ওপর।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর