গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা সুসংহত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করল সৌদি আরব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়কে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

PostImage

গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা সুসংহত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করল সৌদি আরব


জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া নজিরবিহীন সংকট ও অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা বিশ্ব অর্থনীতির স্থায়িত্বের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি এবং এই বিষয়টিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীরভাবে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা উচিত।  
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কাঠামো আজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত পরিবর্তন ও অবনতির দিকে যাচ্ছে, তা সার্বিক বৈশ্বিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। তিনি তার দেশের ওপর ইরান ও ইয়াসিনের হুথি মিলিশিয়াদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।  
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক সংকট বা উত্তেজনা কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার কিংবা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকে জন্ম নেওয়া উচিত নয়। যেকোনো স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়তে হলে একে অপরের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিপালন, সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা আবশ্যক। 


 
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ সুনিশ্চিত করা বৈশ্বিক দায়িত্বের অংশ। তিনি বিশ্ব নৌপথে কোনো একক রাষ্ট্রের বেআইনি শর্ত, টোল কিংবা বাধানিষেধ আরোপের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেন।  
আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন তিনি। সৌদি আরব মনে করে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই অঞ্চলে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।  
ভাষণে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি এবং গাজায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহে বাধা প্রদান এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির চেষ্টার কঠোর সমালোচনা করে তিনি দ্ব রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।  
এছাড়া ইয়েমেনে মানবিক সংকট নিরসনে সৌদি আরবের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, তার দেশ ইয়েমেনি জনগণের সহায়তায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বেশি মানবিক সাহায্য প্রদান করেছে। পাশাপাশি সুদান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেওয়ার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।  
সবশেষে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বা ভিশন ৩০৩০-এর অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, কীভাবে দেশটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। তবে সার্বিক বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর