মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দুই রাজ্যে ট্রাম্পের বিশাল প্রচারণার ঘোষণা

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ওকলাহোমা এবং অ্যালাবামায় ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

PostImage

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দুই রাজ্যে ট্রাম্পের বিশাল প্রচারণার ঘোষণা


যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রসংঘীয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র অল্প কিছু সময়। নির্বাচন কেন্দ্র করে সারা দেশজুড়ে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনা নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নেমেছে। এই ধারাবাহিকতায় রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ তারকা ও সমর্থক গোষ্ঠীর প্রধান আকর্ষণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে দুটি পৃথক জায়গায় বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।


দলীয় সূত্রে পাওয়া সংবাদ থেকে জানা গেছে, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আগামী অক্টোবরের শুরুতে পরপর দুদিন দুটি প্রধান জায়গায় উপস্থিত থাকবেন। সময়সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ওকলাহোমার ডুরান্ট এলাকার একটি কনভেনশন মিলনায়তনে হাজির হয়ে বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি উড়াল দেবেন অ্যালাবামার মোবাইল শহরের উদ্দেশ্যে, যেখানে এক বিশালাকার জনসভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা স্থির হয়েছে। দুটি এলাকারই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সমাবেশ দুটির সার্বিক সুরক্ষা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঝটিকা প্রচারণার পেছনে রিপাবলিকানদের সুদূরপ্রসারী কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও এর আগে নির্বাচনী কৌশলবিদরা আশা করেছিলেন যে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট হয়তো যেসব অঞ্চলে দলগত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, সেসব এলাকায় বেশি গুরুত্ব দেবেন; কিন্তু বাস্তবে তিনি রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমাবেশগুলোর মূল কাজ হলো দলের নিজস্ব ভোটারদের ঘরে বসে না থেকে কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করা। নির্বাচনে জয়ের জন্য সাধারণ বা অনিয়মিত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।


সমাবেশের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ওকলাহোমার ডুরান্ট শহরটি টেক্সাসের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত, যা পাশের বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের আওতাভুক্ত। এর ফলে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রভাব প্রতিবেশী প্রধান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে বলে দলীয় নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন। অন্যদিকে অ্যালাবামার মোবাইল শহরটি ফ্লরিডা উপকূলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে ট্রাম্পের একটি বার্তা আঞ্চলিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিগুলোতে বিপুল পরিমাণ সমর্থকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রতিটি কর্মসূচিতে সাধারণত দলের দীর্ঘদিনের অন্ধ ভক্ত ও কর্মীরা বিপুল সংখ্যায় জড়ো হন। দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল জনসমাগম সারা দেশের অন্যান্য স্থানের রিপাবলিকান প্রার্থীরাও আত্মবিশ্বাস ও নতুন রাজনৈতিক গতি খুঁজে পাবেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট শিবির একে ট্রাম্পের তুলনামূলক দুর্বল বা রক্ষণাত্মক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সমাবেশের দিন যতই এগিয়ে আসছে, আঞ্চলিক রাজনীতির তাপমাত্রা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। দলীয় টিকিট প্রকাশ করার পর থেকেই সমর্থকদের তরফ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে আয়োজকদের দাবি। নভেম্বরের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে আগামী সপ্তাহের এই সমাবেশ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণ করা হচ্ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর