হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের সাধারণ সমাবেশের ডাক, বিদ্রোহীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার মুখে দেশজুড়ে সাধারণ সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি নাগরিকদের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে যারা পক্ষত্যাগ করে সরকারের সঙ্গে যোগ দেবেন, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

PostImage

হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের সাধারণ সমাবেশের ডাক, বিদ্রোহীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা


ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে সাধারণ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। দীর্ঘদিনের সংঘাতের নতুন পর্যায়ে হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি তার প্রথম ভাষণে জনগণের প্রতি জাতীয় প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাগরিকদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে হবে।

আল-আলিমি একই সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। যারা হুথিদের পক্ষ ছেড়ে সরকারের সঙ্গে যোগ দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট শর্তে ক্ষমার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো হুথিদের সামরিক শক্তি ও সাংগঠনিক কাঠামোয় বিভাজন তৈরি করা এবং জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠনের পথ তৈরি করা।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া সরকার ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে আবারও সংঘাতের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।

হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ক্ষেত্রে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।

এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে আসছে।

সরকারের নতুন ঘোষণার অন্যতম লক্ষ্য রাজধানী সানা পুনর্দখল করা। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখলে নেওয়ার পর থেকে রাজধানীটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আল-আলিমি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং পুরো ইয়েমেনে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা। এর মধ্যে সানার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠাও অন্তর্ভুক্ত।

কেন এখন সাধারণ সমাবেশ?

সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতি সরকারপন্থী বাহিনীর ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, আগের যুদ্ধবিরতির কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে আবার সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে।

তৃতীয়ত, বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত।

এ অবস্থায় সরকার জনগণকে সংঘাতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে।

কেন হুথি যোদ্ধাদের সাধারণ ক্ষমা?

হুথি যোদ্ধাদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা সরকারের কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে হুথিদের ভেতর থেকে সদস্যদের বেরিয়ে এসে সরকারের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হতে পারে।

সরকারের আশা, এতে হুথিদের জনবল ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পুনর্মিলনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে সাধারণ ক্ষমার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে কতজন হুথি যোদ্ধা সত্যিই পক্ষত্যাগ করেন এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর।

ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান এখনো অনিশ্চিত। সাধারণ সমাবেশের ডাক এবং হুথি যোদ্ধাদের জন্য ক্ষমার ঘোষণা পরিস্থিতিকে নতুন সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর